অনেকে ভাবেন, মা যেহেতু নারী—তাই তার সম্পত্তিতে মেয়ের ভাগ বেশি থাকবে। কিন্তু এই ধারণা কি আইনসম্মত?
মায়ের মৃত্যুর পর তার নামে থাকা যেকোনো জমি বা সম্পত্তি শরিয়া ও দেশের উত্তরাধিকার আইনের অধীনে বণ্টিত হয়। অনেকেই ভুল করে ভাবেন যে মায়ের সম্পত্তিতে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে বেশি ভাগ পায়। বাস্তবে এমন কোনো নিয়ম নেই। বাবার সম্পত্তির মতো মায়ের সম্পত্তিও একই নিয়মে ছেলেমেয়ের মধ্যে ভাগ হয়।
⚖️ শরিয়া অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের তালিকা
একজন মা মৃত্যুবরণ করলে তার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হন:
ছেলে ও মেয়ে
স্বামী (যদি জীবিত থাকেন)
পিতা ও মাতা (যদি জীবিত থাকেন)
নাতি-নাতনি (বিশেষ পরিস্থিতিতে)
ভাই-বোন (যদি সন্তান না থাকেন)
🔍 উদাহরণ দিয়ে সহজ ব্যাখ্যা
ধরি, একজন মা মৃত্যুবরণ করলেন। তিনি রেখে গেছেন ২ ছেলে ও ১ মেয়ে।
➡️ শরিয়া অনুযায়ী বণ্টন হবে এমনভাবে:
প্রতিটি ছেলে পাবে ২ অংশ
মেয়ে পাবে ১ অংশ
🔸 অর্থাৎ মোট অংশ = ২ + ২ + ১ = ৫ অংশ
🔸 ২ ছেলে পাবে ৪ অংশ, মেয়ে পাবে ১ অংশ।
এখান থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ে কমই পান, বেশি নয়।
👨👩👦 স্বামী, বাবা-মা থাকলে কী হয়?
স্বামী জীবিত থাকলে
সন্তান থাকলে: স্বামী পাবেন ১/৪ (২৫%)
সন্তান না থাকলে: স্বামী পাবেন ১/২ (৫০%)
মায়ের বাবা-মা জীবিত থাকলে
সাধারণত প্রত্যেকে ১/৬ ভাগ করে পান।
📝 জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান (হেবা)
মা যদি জীবিত অবস্থায় কাউকে কোনো সম্পত্তি লিখে দেন, সেটা হেবা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এটি উত্তরাধিকার আইনের আওতার বাইরে।
তবে হেবা সঠিক নিয়মে না হলে পরবর্তীতে তা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই হেবা দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
👨⚖️ আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তা
মায়ের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টনের জন্য প্রয়োজন হবে:
ওয়ারিশ সনদ
উত্তরাধিকার সার্টিফিকেট
প্রয়োজনে আদালতের অনুমোদন ও দলিল নিবন্ধন
বিদেশে অবস্থানরত উত্তরাধিকারীরাও Power of Attorney বা অন্যান্য আইনি মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টনে অংশ নিতে পারেন।
👉 মনে রাখুন: ভুল ধারণা নয়, সঠিক তথ্যই আপনার অধিকার রক্ষা করে।