কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) 'ছাত্র-শিক্ষক সংহতি দিবস' উপলক্ষে শহিদ পরিবারের সাথে মতবিনিময় ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুর বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লব প্রথম বর্ষ উদযাপন কমিটির উদ্যােগে জুলাই বিপ্লবের আহত এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
এসময় জুলাইবিপ্লবে প্রথম গ্রেফতারকৃত ইবি শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান বলেন, "আমি ৭১ দেখিনি কিন্তু চব্বিশের জুলাই দেখেছি। যারা আন্দোলনে গিয়ে ফিরে আসেনি এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে তাদের অবদানের চেয়ে আমি খুব নগন্য। সেইদিন গ্রেফতার করে মোবাইল কেড়ে নিয়ে হাজতে নিয়ে নেয়। পানি, খাবার দিত না বরং বোতল মাথায় দিয়ে ঘুমাতাম। আমাদের শিক্ষকরা চেষ্টা করে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।"
শহিদ সবুজের স্ত্রী রেশমা খাতুন বলেন, "আমার স্বামী জীবন দিয়েছে দেশের জন্য, জাতির জন্য সেটা যাতে দেশ মনে রাখে। আমরা হাসবেন্ডের ব্যাপারে মামলা করেছি, ১১ জন গ্রেফতার করেছে, কিন্তু এখনও বিচার করা হয়নি। আমরা কিছু চাই না তবে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে। সকল শহিদ পরিবারের প্রতি সুনজর রাখবেন। আমি সুবিচার চাই এবং খুনিদেরকে ফাঁসিতে ঝুলাতে চাই।"
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবি শাখা সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, "শহিদদের কথাগুলো শুনলে পরবর্তীতে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। আজকের দিনে শিক্ষকরা আমাদের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছিলেন। অনুরোধ- জুলাইকে হারাতে না দিই। বিভাজনের ষড়যন্ত্রে পা না বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, "শেখ হাসিনার সৌভাগ্য যে তার বন্ধুরাষ্ট্র ছিল, কিন্তু এ সরকারের কোনো পাশের বন্ধু রাষ্ট্র নাই। সুতরাং পালানোর সুযোগও নাই। সুতরাং যে দেশ শাসন করবেন, হিসাব করে দেশ শাসন করতে হবে। দুঃখের বিষয় চব্বিশের বিপ্লবকে আমি বিপ্লব বলতে পারিনা। কারণ বিপ্লবের যে উপাদান তা এতে নেই বরং ফ্যাসিস্টরা ঘাপটি মেরে বসে আসে। তাদেরকে সরাতে পারলেই বিপ্লব সফল হবে।"
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, "রক্তের বিনিময়ে সবসময় পরিবর্তন সাধিত হয়। আর রক্ত দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি জাতিকে জাগ্রত হতে হয়। ঐক্যবদ্ধ না হলে ফ্যাসিস্ট শাসনকে উৎপাটিত করা যেত না। আমাদের জাতি যে দেশ পেয়েছে সেই দেশ আর পেছনে ফিরে যাবে না, আর গণতন্ত্রহীন হবে না, বৈষম্যমূলক হবে না। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজেকে নিবেদিত করতে হবে।"
এসময় তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান করে বলেন, 'শহিদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের পক্ষে সম্ভব নয়। আপনারা একটি সুন্দর দেশ গড়ুন, না হলে শহিদের রক্তের ঋণ শোধ হবে না।"
উপাচর্য আরো বলেন, "আমরা চলে যাব কিন্তু আগামী প্রজন্ম যেন শহিদ পারিবারকে স্মরণে রাখে। তাদের যেন আমরা ভুলে না যায়। ইতোমধ্যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা শহিদের নামে নামকরণ করেছি। ক্যাম্পাসে আগামীর স্থাপনা গুলো ছাত্র-শিক্ষদের মতামতের ভিত্তিতে শহিদ ও ইবি'র বরেণ্য ব্যক্তিত্ব যারা এই ক্যাম্পাসের জন্য রক্ত দিয়েছিল তাদের নামেই নামকরণ করা হবে।"