এস এম আনোয়ার
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকায় জমি ভাড়া সংক্রান্ত চুক্তিকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলাম বাবুল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আবু বকর ছিদ্দিক আলমগীর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১ মে তারিখে মো. আবু বকর ছিদ্দিক আলমগীর এলাকাবাসীকে স্বাক্ষী রেখে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তার মালিকানাধীন ১২ শতক জায়গা ১৮ বছরের জন্য রফিকুল ইসলাম বাবুলের নিকট এলপিজি গ্যাস স্টেশন স্থাপনের উদ্দেশ্যে ভাড়া দেন। কিন্তু চুক্তির এক মাস পরই রফিকুল ইসলাম বাবুল চট্টগ্রাম বন্দরে পাম্পের মালামাল আটকে থাকার অজুহাতে পুনরায় একটি স্ট্যাম্প নেন, যা পরে প্রতারণা মূলক ভাবে সংগৃহীত বলে প্রমাণিত হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, ৭ বছর অতিক্রান্ত হলেও বিবাদী রফিকুল ইসলাম বাবুল কোনো প্রকার ভাড়া প্রদান করেননি। বরং সম্প্রতি উক্ত জায়গায় জোরপূর্বক কাজ শুরু করতে গেলে আলমগীর প্রতিবাদ জানান। এসময় বিবাদী তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবননাশের হুমকি দেন।
পরবর্তীতে ঘটনাটি নিয়ে নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ি ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে প্রমাণিত হয়, দ্বিতীয় স্ট্যাম্পটি প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে এবং সেটি অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উক্ত জায়গাটি আলমগীরের দখলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে এরপরও বিবাদী পক্ষের লোকজন ওই জায়গায় হামলা চালিয়ে আলমগীরের পরিবারের সদস্যদের ওপর নৃশংস হামলা করে, মোবাইল ও মানিব্যাগ লুটে নেয় এবং স্থাপিত বেড়া ভেঙে ফেলে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় ভুক্তভোগী পুনরায় জায়গাটি নিজের দখলে নেন।
এ বিষয়ে মো. আবু বকর ছিদ্দিক আলমগীর বলেন,
প্রতারণা করে আমার কাছ থেকে দ্বিতীয় স্ট্যাম্প নিয়েছে বাবুল। সাত বছরেও ভাড়া দেয়নি, উল্টো এখন আমাদের জানমালের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চাই।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি একাধিকবার সালিশে নিষ্পত্তি হলেও বিবাদী পক্ষ তা মানছে না, বরং সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভুক্তভোগীর ওপর হামলা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।