শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আগামী ১২ জানুয়ারি দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশ করার ডাক দিয়েছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘এজেন্টদের মাধ্যমে পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে। তাদের দাবি, চলমান অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আবারও ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত। এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মূল কারণ ছিল ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় দরপতন ও মূল্যস্ফীতিজনিত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। পরে এসব বিক্ষোভ রাজনৈতিক দাবিতেও রূপ নেয় এবং বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
ইরান সরকার এখন পর্যন্ত নিহত বা গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, দেশটির ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহরের প্রায় ৩০০ স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। তাদের হিসাবে, এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত এবং দুই হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
