এস এম আনোয়ার
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
বাহরাইনে কর্মরত কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার এক প্রবাসী যুবক গত ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ শামসুল আলম বাবলু (বয়স আনুমানিক), উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। গত ২২ এপ্রিল মধ্যরাতের পর থেকে তার কোনো খোঁজ মিলছে না, যা নিয়ে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাবলু বাহরাইনে একটি ফুড ডেলিভারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। হঠাৎ করে তার নিখোঁজ হওয়ার খবরে গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
সহকর্মী ও রুমমেটদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল রাতে বাহরাইনের জল্লাক এলাকায় একটি ডেলিভারি সম্পন্ন করার পর থেকেই বাবলুর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও এখনো পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে তার ব্যবহৃত ডেলিভারি গাড়িটির নিখোঁজ হওয়া। সাধারণত ডেলিভারি কর্মীরা নিজ নিজ যানবাহন ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে বাবলুর ব্যবহৃত গাড়িরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বাবলুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বন্ধু ও সহকর্মীরা বাহরাইনের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপও গ্রহণ করেছেন। তার বাল্যবন্ধু মোঃ মুরাদ বাহরাইনের ইস্ট রিফা পুলিশ স্টেশনে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। একই সঙ্গে মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দূতাবাসের কূটনৈতিক সহায়তা ও স্থানীয় পুলিশের জোরদার তদন্তের মাধ্যমে দ্রুতই তার সন্ধান পাওয়া যাবে।
নিখোঁজের খবরে বাবলুর গ্রামের বাড়িতে চলছে শোক ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ। তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তার স্ত্রী। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ মা। স্বজনদের চোখে এখন শুধু অপেক্ষা—প্রিয় বাবলু সুস্থ ও নিরাপদে ফিরে আসবে এই আশায় প্রহর গুনছে পুরো পরিবার।