
কুকুর-বিড়ালকে চিকিৎসা ও খাবার প্রদানকালে জাকির হোসেন সান্টুর বাধা: প্রাণনাশের হুমকি
মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা: রাজধানী ঢাকার পশ্চিম ধানমন্ডিতে বিভিন্ন স্কুল সংলগ্ন বাড়ি ও রাস্তার কুকুর বিড়ালকে দীর্ঘদিন যাবৎ ভালোবেসে চিকিৎসা ও খাবার প্রদান করে আসছে সৈয়দা নাসরিন আক্তার। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় জাকির হোসেন সান্টু (৫৫) এক ব্যক্তি উক্ত কাজে বাধা প্রদান করেন। শুধু তাই নয় নাসিম আক্তার কে অস্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং এখানে এইসব কর্মকান্ড করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে তিনি আজ ২ মার্চ ২০২৬ রোজ-সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় মাওনানা আকরাম খাঁ হলে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে নাসরিন আক্তার বলেন, আমি সৈয়দা নাসরিন আক্তার একজন মুক্তিযোদ্ধাার সন্তান। আমি ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমি পেশায় ধানমন্ডি শাখার বুলবুল ললিতাকলা একাডেমির একজন শিক্ষিকা। যেটা পশ্চিম ধানমন্ডি আলি হোসেন ও ইউসুফ স্কুলের অবস্থিত। ঐ স্কুল এবং স্কুল সংলগ্ন বাড়ি ও রাস্তার কুকুর বিড়ালকে দীর্ঘদিন যাবৎ ভালোবেসে চিকিৎসা ও খাবার প্রদান করে আসছি। এ কারণে ঐ এলাকার অনেক বাড়িওয়ালা আমাকে উক্ত কাজটি করতে উৎসাহিত করে এবং সাহায্যে সহযোগিতাও করে।
শুধু তাই নয়, বিশেষ করে ৭৭ নং বাড়ির মানু ভাই ও ৬৩/২ নং বাড়ির দুলাল ভাই এ কাজ চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেন। বিগত ১৩/০২/২০২৬ইং তারিখ রাত ৮.৩৫ ঘটিকার সময় নিজ স্কুলে কর্ম শেষে বাসায় ফেরার পথে ৭৬নং বাড়ির সামনে আমাকে পেছন থেকে জাকির হোসেন সান্টু (৫৫) ডাক দিয়ে তুই সম্বোধন করে আমাকে দাঁড়াতে বলে। তার কথা মতো আমি দাঁড়িয়ে যায়। তখন সে আমাকে বলে তুই এখন এই মুহূর্তে আমার সামনে এই ধানমন্ডি এলাকার সব কুকুর-বিড়ালকে বস্তাবন্দি করে তোর ঘরে নিয়ে তোর বাপ-আর স্বামীকে দিয়ে সেবা-যত্ন করবি। এই এলাকায় আর কোনোদিন আসবি না। যদি আসিস তাহলে তোকে আমি গুলি করে মারবো।
টানা ৩৫ মিনিট আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং গায়ে হাত ভোলার জন্য বার বার তেড়ে আসে। আমি আমার অপরাধ জানতে চাইলে, সে আমাকে বলে তোর অপরাধ হলো কুকুর-বিড়ালগুলো খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখিস আর রাতে বিভিন্ন সময় ওদের চিৎকারে আমাদের ঘুমের সমস্যা হয় এবং বাড়ির ভাড়াটিয়াগুলো চলে যায়। তিনি আরো বলেন, এমন সময় আমি ভয়ে নিরুপায় হয়ে চলে আসার চেষ্টা করলে সে আমাকে আবারও কুকুর-বিড়াল নেওয়ার জন্য জবরদস্তি করে।
এক পর্যায়ে আমি ৭৭নং বাড়ির মানু ভাইকে শুভাকাঙ্ক্ষি মনে করে তার দোকানের সামনে দাঁড়ায় এবং বিষয়টি তাকে অবগত করি। তখন মানু ভাই সান্টুকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এই সময় আমি দেখি ঐ দোকানের ভেতরেই ৭-৮ জন বাড়িওয়ালা এবং সান্টুর আপন বড় ভাই দুলাল সেখানে বসা ছিল। তখন আমি অসহায়ের মতো দুলাল ভাইকে জানালে তখন দুলাল ভাই আমাকে দুই হাত জোড় করে বলে আপা আপনি আর এই এলাকায় আসেন না, কুকুর-বিড়ালকে খাওয়ানোর আর চিন্তা করেন না। আমি নিজেই যন্ত্রণার মধ্যে আছি।
গত ০৫ জুলাই/২০২৫ বিকাল ৪.২০ ঘটিকায় সেন্টুর ঘনিষ্ট বন্ধু সামীউল ইসলাম তারা (৭৭ নং বাড়ি)। আমাকে একই ভাবে পেছন থেকে ডেকে অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় হেনস্থা করে এবং প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে আমি আইনের সহযোগিতা নিতে চাইলে আমাকে মানু ভাই দুলাল ভাইসহ এলাকার অনেকেই ব্যক্তিগত মীমাংসা করে দেয় এবং আশ্বস্ত করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না। যদি ঘটে তাহলে আপনি আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন। তখন আর আমরা আপনাকে বাধা দিবো না। কিন্তু ১৩/০২/২০২৬ইং তারিখে সেন্টু আবারও ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় এবং তার বন্ধু সামীউল ইসলাম তারার নাম উল্লেখ করেন বার বার। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার জিডি ট্র্যাকিং নং- SLXOW2, জিডি নং-১২৩৬, তারিখ: ২২/০২/২০২৬ইং।
আপনারা আপনাদের লিখনির মাধ্যমে আমার কথাগুলো বিশ্লেষণ করে আপনাদের মিডিয়ায় তুলে ধরলে হয়তো প্রশাসনের নজরে আসবে এবং আমি এর বিচার দ্রুত পাবো বলে বিশ্বাস করি।
পরিশেষে আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শেষ করছি।