
নিউজ ডেস্ক : ০৯-১২-২০২৫
বিগত ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে এনসিপি নিজেদের ভুল স্বীকার করল, আবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ আট দলীয় জোটের ভুল স্বীকার, অথচ জমিয়তের অবস্থান শুরু থেকেই অটল!
ভবিষ্যতে যখন আপনারা নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত বুঝতে পারবেন, তখন অনুতাপ নিয়ে ফিরে আসবেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আপনাদের সাদরে গ্রহণ করবে এবং নতুনভাবে সমমনা ইসলামী দলগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে। অনেকেই হয়তো এই কথাকে তুচ্ছ করবে, তবে একথা বলে রাখি—অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং বিদ্যমান বাস্তবতার নিরিখে বলছি, আমার এই বক্তব্যটি নোট করে অথবা স্ক্রিনশট দিয়ে রাখতে পারেন। ভবিষ্যতে মিলিয়ে নেবেন।
চরম একটি বাস্তবতা হলো, বুলেটের ভয়ে যারা নীরব ছিলেন, তারাই এখন ‘কিবোর্ড মুজাহিদ। আওয়ামী লীগ যেভাবে হেফাজত ও জামায়াতকে সবসময়ই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করত, ঠিক সেভাবেই বর্তমান আট দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা এবং ইআবা-এর কেন্দ্রীয় কিছু মুরব্বি জমিয়তকে নোংরাভাবে উপস্থাপন করার জন্য নিজেদের পাঞ্জাবি-পায়জামার আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছেন।
কিছু বিষয়ে ইচ্ছে হয় দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার, কিন্তু নিজেদের জাতিভাই হিসেবে আমরা নীরব থাকি। হঠাৎ দু-একটি পোস্ট বা ভিডিও ছাড়লে ওদের গায়ে পোড়া গন্ধ করে, কমেন্ট বক্সে হিংসার বোমাবর্ষণ হয়। ট্যাগ দেওয়া শুরু হয়।
অথচ বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আপনারা চুরি পরে (অসহায়ভাবে) বসে ছিলেন। পোস্ট আর শেয়ার তো দূরের কথা, লাইক-কমেন্ট করতেও ভয় পেতেন। চব্বিশের বিপ্লবের পর এখন সবাই কিবোর্ড মুজাহিদ হয়ে গেছেন। আপনারা যখন ইয়া নফসি করছিলেন, তখন আমরা প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভিস্ট ছিলাম; পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা তথ্যবহুল ও আক্রমণাত্মক শব্দবাণ (শব্দবোমা) লেখা সহ আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকার চেষ্টা করতাম। বুলেটের ভয় আমাদের নিস্তব্ধ করতে পারেনি। চব্বিশের কৃতিত্বেও আমাদের অবদান কম নয়। আপনারা তো নবপাখা গজানো পিপীলিকার মতো; আবার যদি ঝঞ্ঝা আসে, আপনাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বিভিন্ন কারণে আমরা জামায়াতের বিরোধিতা করি, কিন্তু জামায়াতের ওপর নির্যাতন এবং তাদের নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসি দেওয়াকে আমরা কখনো সমর্থন করিনি, বরং প্রতিবাদ করেছি। ইআবা-এর সাথে রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু যখন চরমোনাইয়ের দ্বিতীয় আমির আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত হলেন, তখন জমিয়তের অন্তর ব্যথিত হয়েছিল। জমিয়তের নেতাকর্মীরা একযোগে তার প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আল্লামা মামুনুল হক ইস্যুতেও আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভিস্টের ভূমিকায় ছিলাম। বিএনপির নেতাকর্মীদের দূর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরোধী কথা বলেছি, এমন আরও অনেক উদাহরণ আছে। আমরা নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দেইনি, আমাদের হৃদয়ে দয়ামায়া বলতে কিছু একটা আছে। আপনারা তো উন্মত্ত মস্তিষ্ক আর ঘৃণার বিষ অন্তরে নিয়ে রাজনীতি করেন। এই আচরণ যদি বিগত সতের বছর দেখাতেন, তাহলে কিছুটা মানানসই হতো।
পরিশেষে বলব, প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ রাজনীতি করুন, স্বজাতির স্বকীয়তা বজায় রাখুন। ইসলাম এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের আপসহীন সংগ্রামের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। সবার জন্য রইল দোয়া ও শুভ কামনা।
মাওলানা আতিকুর রহমান কামালী
অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদ