
বাংলাদেশের বাউল জীবন, দর্শন ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় তলায়।
সভায় দেশের বাউল ঐতিহ্য, দর্শন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নীতিনির্ধারকরা।
লালন গবেষক ও কণ্ঠশিল্পী সরদার হীরক রাজা বাউল দর্শনের মানবতাবাদী দিক তুলে ধরে বলেন, “বাউল দর্শন শুধু গান নয়, এটি মানুষের মধ্যে বিভেদ দূর করার পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন।” জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক রেজা বলেন, বাউল দর্শন ও লোকসংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া একাডেমিক গবেষণার মাধ্যমে সম্ভব।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা জোরদার করতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইকোনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর কবির, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মৃধা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শহীদুল ইসলামসহ আরও অনেকে। বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফকির শফি মন্ডল বলেন, বাউল শিল্পীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছেন। জীবনমান উন্নয়ন এবং শিল্পচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এই ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়বে।
বক্তারা সম্মিলিতভাবে বলেন, বাউল দর্শন বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের শক্ত ভিত্তি। গবেষণা, নীতিগত সহায়তা, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হবে।