গত ৮ দিন অতিবাহিতের পরে
শিশুকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের

খাদেমুল ইসলাম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: অবশেষে গত ৯ দিন অতিবাহিতের পরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেঁতুলিয়া মডেল
থানার অফিসার ইনচার্জ লাইছুর রহমান। তিনি জানান, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা শনিবার রাত৮টার দিকে এসে
সানোয়ার (৬৫) নামের ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে
মামলাটি রুজু করা হয়।

মামলার পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, গত ২২ আগস্ট শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় ৯৯ নম্বরে ফোন করে উদ্ধার করে পুলিশ ওই দিনই
তেঁতুলিয়া উপজেলা ৫০ শয্যার
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়
আপোষের রফাদফার ঘটনা ঘটে রাতের অন্ধকারে। বিষয়টি নিয়ে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে উভয় পক্ষের
স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় আপোষের ঘটনায় প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে স্থানীয় গ্রামবাসী।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার মহাসড়কের রবীন্দ্র সরণী বাইপাস এলাকায় অভিযুক্ত কথিত ‘আপোষ’ মীমাংসার
নেপথ্যে থাকা সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়ার বিচারের দাবিতে ঝাড়ু ও জুতা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ নারী পুরুষ । এসময় তারা প্রায়
দুই ঘণ্টা তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে উপজেলার টাইয়াগছ এলাকায় এক প্রতিবেশী
সানোয়ার হোসেন ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে এনে
হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও একটি প্রভাবশালী মহল আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধা দেয়। তাদের
দাবি অর্থের
প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করার জন্য চাপ দেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপাদেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, সুলতানা রাজিয়া ভুক্তভোগী শিশুর বাবাকে মিডিয়া ও
পুলিশের কাছে মুখ না খুলতে নিষেধ করেছেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসামাজিক ও
অপরাধমূলক কর্মকান্ড ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ সভায় স্থানীয়রা তাঁর
অতীত কর্মকান্ড তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী শিশুর দাদা জানান, “সুলতানা রাজিয়া দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন,
আমি দূরে আছি, বাসায় এসে দেখব মামলা হবে নাকি আপোষ হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক তালুকদার বলেন, “এত বড় একটি জঘন্য ঘটনা গোপনে আপোষ করার
চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সরাসরি জড়িত।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুলতানা রাজিয়া মুঠোফোনে জানান, তিনি গত কয়েকদিন ধরে
ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এই আপোষের ঘটনার সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম
আকাশ এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান ও
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেওয়া
হলে দুই ঘণ্টা পর স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন।

ইউএনও আনোয়ার হোসাইন বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী
পরিবার যাতে শতভাগ ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাতে মামলার পর থেকেই এলাকায় এখন স্বস্তি ফিরলেও অভিযুক্তকে
দ্রুত গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দাবি টাইয়াগছ এলাকাবাসীর।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি লাইছুর রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি
প্রক্রিয়া চলমান ছিল। কিন্তু এ কয়েকদিনে ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দাখিল না
করায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে গতকাল শনিবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাসুদ
আলী থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত সানোয়ারকে গ্রেপ্তার করতে আমরা
কাজ করছি। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে
পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।