পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ইবি রেজিস্টারকে শুভেচ্ছা

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাবনা জেলার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, দাওয়াহ্ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মাওলা, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম. এম. নাজিমুজজামান, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি শাকিল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিনসহ পাবনা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মওলা বলেন, “ড. আতিক আমাদের পাবনার মানুষ। তিনি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর যে আন্তরিকতা ও আবেগ অনুভব করেছি, সেটি অন্যরকম। এই অনুভূতি নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা খুবই প্রাণবন্ত ও আনন্দিত। আমাদের প্রাণের মানুষকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় দেখতে চেয়েছিলাম। আমাদের প্রত্যাশা ও উচ্চাশা আরও বড় ছিল। তবে আল্লাহ রব্বুল আলামিন যেটা কবুল করেছেন, তাকে সেই জায়গাতেই এনেছেন। আমরা এতে আনন্দ প্রকাশ করছি এবং মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।”

পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতির সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান বলেন, “এই সমিতির উন্নয়ন, তোমাদের উন্নয়ন এবং আমার সব শিক্ষার্থীর জন্য আমি সবসময় পাশে থাকতে চাই। আমি যেকোনোভাবে তোমাদের সহযোগিতা করতে পারলে করব—সেটা পরামর্শের মাধ্যমে হোক কিংবা অন্য কোনোভাবে। জীবনে অনুপ্রেরণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক মানুষেরই একজন মেন্টর থাকা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “স্বপ্ন দেখতে হলে সামনে একজন মেন্টরকে রাখা দরকার। তোমাদের শিক্ষকরা আছেন, তোমরা নিজেদের মেন্টর ঠিক করো এবং তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নাও। প্রতিদিন অল্প অল্প করে, বিন্দু বিন্দু করে মানুষ এগিয়ে যায় এবং একসময় সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে। যখন অন্যরা ঘুমাবে, তখন তোমাকে নিজের জন্য কাজ করতে হবে।”

শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো স্বপ্নই ছোট নয়। আবার এমন কোনো বড় স্বপ্নও নেই, যেটা অর্জন করা তোমার পক্ষে অসম্ভব। আমাদের পাবনার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অনেক সফল মানুষ রয়েছেন; দেশের অনেক বরেণ্য ব্যক্তিও পাবনার সন্তান। তোমার অর্থনৈতিক অবস্থা, তোমার বাবা কী করেন কিংবা তুমি কোন গ্রামের বাসিন্দা—এসব তোমার সাফল্যের নির্ধারক নয়।”

তিনি বলেন, “তোমরা আজ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায় পৌঁছাতে পেরেছ—এটাই বড় একটি সুযোগ। এখান থেকে তোমরা চাইলে অনেক দূর যেতে পারো। তোমাদের স্বপ্নের কোনো সীমা নেই। লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও শিক্ষকদের পরামর্শকে কাজে লাগাতে পারলে তোমরা অনেক বড় কিছু অর্জন করতে পারবে।”