চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ।
যশোর চৌগাছায় ঘটনাটি ঘটেছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন কৃষককে থানা হেফাজতে,

হরিণাকুণ্ডুর মিজানুরের মৃত্যু, তদন্তে নেমেছে পুলিশ,

মোঃ খলিলুর রহমান
দৈনিক আইনের কন্ঠ।

অনলাইনের মাধ্যমে লোক সমাজ পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন আইডিতে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারা গেছে। জানা যায়, ৫ অক্টোবর ২০২৬ রাত প্রায় ৩টার দিকে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ব্যক্তি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ১ নম্বর ভায়না ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে ‘মাস্তান’। তাঁর পিতার নাম মৃত সিরাজুল ইসলাম।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আট ভাই ও দুই বোন—মোট ১০ ভাইবোনের মধ্যে মিজানুর ছিলেন একজন। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। প্রায় এক বছর পর ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি ঝাউদিয়া বাজার এলাকায় গ্রামের এক ব্যক্তি তাঁকে দেখতে পান। পরে তাঁর ভাইদের খবর দিলে তাঁরা গিয়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মিজানুর মাঝে মাঝে চৌগাছায় তাঁর সেজো ভাই নজরুল ইসলামের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যেতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে প্রায় ৩টার দিকে তাঁকে চোর সন্দেহে আটক করা হয়। পরে তাঁকে মারধর ও গণপিটুনি দেওয়া হয়। খবর পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত মিজানুর রহমানকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেজা উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত আঘাতের কারণে শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সন্দেহের বশে গণপিটুনি—উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

চোর সন্দেহে কাউকে আটক করার পর আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর বা গণপিটুনি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ করে নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং এর আগে দীর্ঘদিন নিখোঁজও ছিলেন—এমন তথ্য সামনে আসায় ঘটনাটি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে।

মিজানুর রহমানকে কারা আটক করেছিলেন, কারা মারধরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ঠিক কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে।