আদমদীঘিতে ইউএনও-এসিল্যান্ডের সহযোগিতায় ৪০টি পরিবার ফিরে পেল চলাচলের রাস্তা।
মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার আদমদীঘিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবহৃত চলাচলের পথ খুলে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পথটি উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির পথ তৈরি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ওই পথ ব্যবহারকারী প্রায় ৪০টি পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি উপজেলার আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের তালশন মহল্লায় হাসপাতালের পূর্ব পাশের এলাকায়।
জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট ভোরে আব্দুল হাকিমের ছেলেরা জিআই তারের বেড়া দিয়ে পথটি বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। রাস্তার জায়গায় ওই পরিবারের কয়েকটি গাছ থাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পরে সরকারি সার্ভেয়ার এমদাদুল হক জায়গাটি মাপজোখ করে রাস্তার স্থান নির্ধারণ করেন এবং গাছ অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে গাছ কাটার জন্য সময় চাওয়ার পরও বিষয়টির সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একপর্যায়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় ভোগান্তির শিকার বাসিন্দারা গত ২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সংসদ সদস্যও অভিযোগটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠান।এমন তথ্যের ভিত্তিতে পরে গত ১ ও ২ অক্টোবর বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে “আদমদীঘিতে কাঁটাতারের বেড়ায় ২৮ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ, ভোগান্তিতে পথচারী” একাধিক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখেন এবং আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর সোমবার সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রশাসনের উদ্যোগে অবরুদ্ধ পথটি খুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত পথ ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনসাধারণের চলাচলের দুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, স্থানীয় ৪০টি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলজনিত দুর্ভোগ নিরসনে জনস্বার্থ বিবেচনায় পথটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া লিখিত অভিযোগও ছিলো। শীঘ্রই রাস্তার একটা পরিপূর্ণ মাপজোখ সম্পন্ন করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে সংস্কারকাজ করা হবে।