ঠাকুরগাঁওয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ খেলোয়াড় বাছাই সম্পন্ন, তারুণ্যের জয়জয়কার।

নুরে আলম শাহ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
“ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে শেষ হলো প্রতিভাবান ও উদীয়মান ক্রীড়াবিদ অন্বেষণের জমজমাট আসর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২) ২০২৬-২৭’। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ক্রীড়া অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আয়োজনে এই ক্রীড়া উৎসব স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে সৃষ্টি করেছে এক অন্যরকম উন্মাদনা।
রবিবার (২ অক্টোবর) শহরের সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী চলা এই প্রতিভা অন্বেষণ ও বাছাই পর্বের সফল সমাপ্তি ঘটে।
তৃণমূল পর্যায় থেকে আগামী দিনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করতে এই আয়োজনে স্থানীয় তরুণদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা যায়।

জমকালো উদ্বোধন ও অতিথিদের উপস্থিতি
বাছাই কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আঞ্চলিক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিটু।
সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান নেওয়াজের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল হাসান ত্বহা এবং সালন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষক আবু ইয়াছিন মো. মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
মো. জহুরুল হক জুয়েল (সভাপতি, ১নং ওয়ার্ড বিএনপি),মো. জাহিদুল ইসলাম (প্রধান শিক্ষক, আর.কে. ষ্টেট উচ্চ বিদ্যালয়)
খাশিরুল ইসলাম (প্রধান শিক্ষক, গোয়াল পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়),মন্টু সরকার (প্রধান শিক্ষক, পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ)
এছাড়া পুরো টুর্নামেন্ট ও বাছাই প্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে পরিচালনায় সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন শারীরিক শিক্ষক আনসারুল হক, সহকারী শিক্ষক শাহানা বেগম, শারীরিক শিক্ষক আল আমিন এবং আনোয়ার হোসেন।
১০টি ইভেন্টে তারুণ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনতে এবারের আয়োজনে মোট ১০টি ডিসিপ্লিনে খেলোয়াড় বাছাই করা হয়। ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* ফুটবল ও ক্রিকেট
* কাবাডি ও ভলিবল
* অ্যাথলেটিক্স ও ব্যাডমিন্টন
* দাবা ও মার্শাল আর্ট
* সাঁতার ও টেবিল টেনিস।
এ সময় বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ের এই দূরদর্শী উদ্যোগ শুধু খেলাধুলাকেই এগিয়ে নেবে না, বরং যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ জাতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এসব ক্রীড়াপ্রতিভাকে সঠিক পরিচর্যা ও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তারা একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের লাল-সবুজ পতাকা গৌরবের সাথে তুলে ধরতে সক্ষম হবে।
সপ্তাহব্যাপী চলা এই আয়োজনে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় তরুণ ও ক্রীড়াপ্রেমী মহলে যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে, তা জেলার ভবিষ্যৎ ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য এক দারুণ আশাব্যঞ্জক সূচনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।