সাভার | ১৩ জুলাই ২০২৫,
সাভার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নারী ও তার পরিবারকে নিজ ঘরে আটকে রেখে আগুনে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ঘরের মূল্যবান মালামাল ভাঙচুর করে তারা আলমারির তালা ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। ভয়াবহ এই ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম। দেখা যায়, অভিযুক্তরা থানার ইনচার্জের সঙ্গেই বসে চা পান করছেন।
ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম কাঁদতে কাঁদতে জানান,
“ঝুমা আমার ছেলে মামুনের প্রাক্তন স্ত্রী। সে মাঝেমধ্যে সন্ত্রাসীদের নিয়ে আসে মামুনকে খোঁজার নাম করে। ঘটনার দিন দুপুরে তুহিন, টিটু এবং আরও কয়েকজন আমাদের বাড়িতে হঠাৎ ঢুকে পড়ে। তারা চিৎকার করে বলে—‘মামুন দেশে ফিরেছে, বাড়ির অংশ ঝুমার নামে লিখে দিতে বলো!’ আমি বলি, মামুন তো এখনো কানাডায়। তখন তুহিন রেগে গিয়ে বলে—‘আমাদের কথা না শুনলে ঘরের ভেতর সবাইকে রেখে আগুন লাগিয়ে দেব।’”
ভয়ে কাঁপছিলেন বৃদ্ধা, তবুও রেহাই মেলেনি ভয়ের চোটে আনোয়ারা বেগম তুহিনের হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে অনুনয় করেন,
“আমি মামুনকে সব জানাবো, শুধু আমাদের ক্ষতি করবেন না।”কিন্তু দুর্বৃত্তরা থামেনি। ঘরের আলমারি ভেঙে তার স্বামীর দেওয়া সোনার গহনা লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই আনোয়ারা বেগম আশুলিয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে নতুন এক দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হন।“আমি থানায় গিয়ে দেখি—ঝুমা, তুহিন ও থানার ইনচার্জ একসাথে বসে চা খাচ্ছে। এত ভয় পেয়েছিলাম, কোনো কথা মুখ দিয়ে বের হয়নি। চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ফিরে এসেছি,” — জানান তিনি।
স্থানীয়দের ক্ষোভ: ‘এই এলাকায় কেউ নিরাপদ নয়’
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দুর্বৃত্তরা লাগামহীন হয়ে উঠেছে।
না প্রকাশে এক প্রতিবেশী জানান,“এরা আগে আওয়ামী লীগের ছায়ায় ছিল, এখন বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় ত্রাস কায়েম করছে। যদি একজন অসহায় পরিবারের সঙ্গেও এমন হয়, তাহলে আমরা কেউই নিরাপদ না। পুলিশ নিশ্চুপ কেন?”
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।