ভাইরাল জ্বর বা সর্দি-কাশি হলে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। চিকিৎসকেরাও বলেন, বিশ্রাম নিতে হবে, তরল খেতে হবে। অথচ মনে হয়, অ্যান্টিবায়োটিক খেলে তো জ্বর সেরে যেত দ্রুত। আসলে সারত না। কেন? কেন ভাইরাল জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না? জেনে নিন অ্যান্টিবায়োটিক কীভাবে কাজ করে ও ভাইরাল রোগে করণীয়…

কেন ডাক্তার এ কথা বলেন? কারণ আছে। সেটা জানতে প্রথমে বুঝতে হবে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার পার্থক্য এবং অ্যান্টিবায়োটিকের কর্মক্ষমতার পেছনের বিজ্ঞান।

ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস: দুই ভিন্ন শত্রু

আমাদের বেশির ভাগ অসুস্থতার পেছনে দায়ী দুই ধরনের জীবাণু: ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস। অতি খুদে এই জীবদের আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। সে জন্য লাগে মাইক্রোস্কোপ। কিন্তু খুদে এই জীবেরাই কেমন কাত করে ফেলে আমাদের! করোনার সময় সে তো আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। একটু খেয়াল করলেই মনে পড়বে, সে সময়ও আমাদের কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দেননি ডাক্তাররা। এর কারণ, ভাইরাস আর ব্যাকটেরিয়া দুটো একদম আলাদা। আর এই ভিন্নতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজের মূল রহস্য।

ব্যাকটেরিয়া আসলে একধরনের এককোষী প্রাণ। আদিপ্রাণ। ব্যাকটেরিয়ার কোষকে বলা হয় প্রোক্যারিওটিক কোষ বা আদি কোষ। অর্থাৎ এই কোষগুলো খুব সুগঠিত নয়। এর ভেতরে মুক্তভাবে ভেসে বেড়ায় জেনেটিক পদার্থ। ডিএনএ বা আরএনএ। যাদের ভেতরে ডিএনএ থাকে, সেগুলোকে ডিএনএ ব্যাকটেরিয়া বলে। আর আরএনএ থাকলে বলা হয় আরএনএ ব্যাকটেরিয়া। ভাইরাসের সঙ্গে এদের মূল পার্থক্য হলো, আদিমতম হলেও এগুলো একধরনের কোষ, মানবদেহ বা কোনোরকম পোষকদেহ ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে। ভাইরাসের জন্য বিষয়টা তা নয়। ভাইরাস এমনিতে নিষ্ক্রিয় থাকে। শুধু পোষকদেহের সংস্পর্শে এলেই এরা সক্রিয় বা অ্যাকটিভেট হয়, শুরু করে নিজের কাজ। এই কাজটা কিন্তু আর কিছু নয়। নিজের কপি তৈরি করা। অর্থাৎ প্রজনন করা। নিজের সংখ্যা বাড়ানো। এই কাজ করতে গিয়েই এরা মানুষকে অসুস্থ করে ফেলে।

জিনিসটা কীরকম? জিনিসটা আসলে ডজনখানেক জিন, একটা প্রোটিনের আবরণে মোড়া। অল্প কিছু ভাইরাসের দেহে অবশ্য একশ র বেশি জিন থাকে। আর কিছু ব্যতিক্রমী ভাইরাসের জিনবিন্যাস ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও বড় হয়! বিজ্ঞানীদের ধারণা, অন্তত ২১৯ ধরনের ভাইরাস মানুষকে আক্রমণ করতে পারে। এদের আক্রমণেই আমাদের সর্দি-কাশি, ফ্লু বা জ্বর হয়।