গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির সভায় ও পথযাত্রায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভানেত্রী জুবায়েদা কাদের চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন: আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাবেক সভাপতি এবং ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের এবং ১৯৫৩ সালে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী নিজের দল ত্যাগ করে ১৯৫৭ সালে নতুন দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ গঠন করেন।
মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক পুত্র ও বিশ^স্ত শিষ্য পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান ন্যাপের প্রথম কর্মিসভাটিকে ইটপাটকেল ছুড়ে ও হট্টগোল সৃষ্টি করে ভণ্ডুল করেন। তখন ন্যাপের বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হন। সেদিন শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ রাজনীতির সোজা লেজটি বাঁকা করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পূর্বে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের জনসভাতে তারা ইটপাটকেল ছুড়েছে, বক্তৃতা মঞ্চ ভাঙচুর করেছে। সেই সাথে আহত করেছে মুসলিম লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মসনদে বসে ভিন্ন মতাবলম্বীদের শুধু হত্যা, নির্যাতন ইত্যাদি করেই ক্ষান্ত হয়নি, ১৯৭৫ সালের ১৬ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগসহ সব দল বিলুপ্ত করে একদল বাকশাল গঠন করেন যেন আর কেউ তার বিরোধিতা, সমালোচনা বা অন্য দলের গণসমর্থনকে হজম করতে না পারে। সেদিন হতে এই দলের নেতাকর্মীরা কারো বিরোধিতা বা সমালোচনা হজম করতে পারেন না । ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সহনশীলতা ও শোভন আচরণের সংস্কৃতি শুরু থেকেই ছিল না।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর ফ্যাসিবাদী যে আচরণ করেছে তা নজিরবিহীন। ৫ আগস্ট ইতিহাসের ভয়াবহ রাজনৈতিক নিমজ্জনের পরও প্রতিপক্ষকে হুমকি দেয়া এবং সর্বশেষ গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির সভায় ও মিছিলে আক্রমণ ও ভাঙচুর করে এই সত্যটিই প্রমাণ করেছে যে, ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বাঁকা লেজটি কখনো সোজা হবে না। বিজ্ঞপ্তি।