চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানাধীন রৌফাবাদ ও অক্সিজেন পাটানপাড়া এলাকায় লাকি আক্তার ও চাম্পা আক্তার নামে দুই নারী বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষকে ভয়, হুমকি ও হয়রানির মধ্য দিয়ে জিম্মি করে রেখেছেন।
ভদ্রবেশে চলাফেরা করলেও এলাকাবাসী জানে— এরা দুইজন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মূল হোতা। স্থানীয়দের ভাষায়,
এরা শুধু খারাপ না, এরা ভয়ঙ্কর।”
অপরাধই যাদের পেশা ও নেশা:
লাকি ও চাম্পা আক্তারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সত্যি হলে, এটি একটি সম্পূর্ণ অপরাধ সাম্রাজ্য—
মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি
ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি
মাদক ব্যবসা: মদ, বিয়ার, উসকি বিক্রি
প্রতারণা, অবৈধ সম্পর্ক, বিবাহ জালিয়াতি
কারাগারে থেকেও অপরাধ চালানোতে সহযোগিতা
চাম্পা আক্তার তিনবার স্বামী পরিবর্তনের পর বর্তমানে কুখ্যাত গ্যাং সদস্য আবদুর নবী লেদুর সঙ্গী।
অন্যদিকে লাকি আক্তার স্থানীয় সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছেন, অভিযোগ করছে এলাকাবাসী।
কারাগারে থেকেও রাজত্ব!
বর্তমানে আবদুর নবী লেদু ও তার ছেলে আবদুর রহিম কারাগারে।
তবে তাঁরা সাধারণ বন্দী
তথ্য অনুযায়ী, জেলখানায় টাকার বিনিময়ে পাচ্ছেন মাছ-মাংস, মোবাইল ফোন, আরামদায়ক সিট সহ নানা বিলাসবহুল সুবিধা।
এসব টাকার উৎস?
লাকি ও চাম্পার মাদক, প্রতারণা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আদায়কৃত অর্থ।
দুদকের ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে!
লাকি আক্তারের বিরুদ্ধে দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) ইতোমধ্যেই ওয়ারেন্ট জারি করেছে।
তবুও প্রশাসনের কেউ তাকে গ্রেফতার করছে না।
এই দুই নারী প্রতিদিনই অপরাধ করে যাচ্ছেন প্রকাশ্যে, অথচ পুলিশ ও প্রশাসন নিশ্চুপ।
আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই!
২০২৫ সালে পাস হওয়া ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন আইন-এ রয়েছে—
মিথ্যা মামলার জন্য বাধ্যতামূলক শাস্তি ও জরিমানা
পুলিশি জবাবদিহিতা ও গ্রেপ্তারে স্বচ্ছতা
ভিকটিমের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ
তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—
এই আইন লাকি ও চাম্পার মতো অপরাধীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে না কেন?
কারা এদের রক্ষা করছে? প্রশাসনের ভেতরে কী রয়েছে কোনো যোগসাজশ?
জনগণের জোরালো দাবি:
লাকি আক্তার ও চাম্পা আক্তারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক
তাদের সম্পূর্ণ অপরাধ নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা হোক
জেল ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির তদন্ত হোক
মিথ্যা মামলার শিকারদের সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক
জনসচেতনতা ও পুরস্কার ঘোষণা:
চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার সচেতন এলাকাবাসী ঘোষণা দিয়েছেন—
লাকি ও চাম্পা আক্তারকে চিহ্নিত করে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার দেওয়া হবে।
প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয়, আমরা জনগণ নিজেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।”
দেখামাত্র পুলিশকে খবর দিন।
এই দুইজনকে ধরিয়ে দিন— সমাজকে বাঁচান অন্যায়ের হাত থেকে।