সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলায় এক সময়ের কুখ্যাত আওয়ামী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বাবলা -বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আরও ভয়ংকর রূপে। বাবলা, বয়স ৪৪, পিতাঃ মৃত কাশেম আলী, কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা, যার বিরুদ্ধে একাধিক মার্ডার কেস সহ চাঁদাবাজি, গুম, খুন, জমি দখল, নারী নির্যাতন, শিশু অপহরণসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বাবলা এখন বিএনপির রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বহু নিরীহ ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী ও সাধারণ মানুষ তার টার্গেটে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। বাবলার ভয়ে এলাকার অন্তত ২৫ জন যুবক দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। জানা যায়, তারা বর্তমানে বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে রয়েছেন। আব্দুল মজিদ (৩৫), পেশায় ব্যবসায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে, নাজমুল ইসলাম ৩৫কানাডা ব্যবসায়ী টার্গেট, কামাল হোসেন (২৮), ছাত্র, সংযুক্ত আরব আমিরাতে, রাসেল আহমেদ (৩২), চাকুরিজীবী, ইতালিতে, জাকারিয়া আহমেদ ৪৩ কানাডা-জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়েছেন (বাকি নামগুলো তদন্ত সাপেক্ষে প্রকাশ যোগ্য)
এদের মধ্যে অনেকে আহত অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসাধীন, কেউ কেউ আবার স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় কোনোভাবে পলায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে যাদের পক্ষে বিদেশে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তারা আজ স্থানীয়ভাবে গৃহবন্দী অথবা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় এক প্রবীণ মুরুব্বি জানান, “বাবলা এক সময় আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ছিল, তখনো সাধারণ মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল। এখন সে বিএনপির ছত্রছায়ায় এসে আগের চেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য তাকে রক্ষা করছে। ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।”
গুম ও খুন: বাবলার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি খুনের মামলা রয়েছে।
চাঁদাবাজি: প্রতিমাসে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হয়।
নারী নির্যাতন: একাধিক নারীকে জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
জমি দখল: অসহায় পরিবারগুলোর জমি দখল করে তাদের উচ্ছেদ করেছে।
শিশু অপহরণ: কয়েকটি ঘটনায় শিশু অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাবলা পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের মদদে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো অভিযোগ উঠলে তা ধামাচাপা দেওয়া হয় বা ভুক্তভোগীকে উল্টো হয়রানি করা হয়।
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় বাবলার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে আসছে। তবে এখনও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের জীবন আজ চরম অনিরাপত্তার মধ্যে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বাবলা ও তার চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার অভিযোগ গ্রহণ করে আশ্বাস দেন যে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই তদন্ত সাপেক্ষে বাবলা ও তার সহযোগী অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। নিরীহ মানুষের জীবন নিয়ে যারা খেলা করে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।”