পটুয়াখালী, বাউফল উপজেলা নরিয়া স্কুল সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম খানের ওয়ারিশরা জানায় আমাদের প্রায় ৭০ বছরের পুরনো পারিবারিক বন্টনকৃত জমি একই খতিয়ানের দোহাই দিয়ে জমি জবরদখলের প্রচেষ্টা, মিথ্যা প্রচারণা ও হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছে জহিরুল ইসলাম গং। অথচ জহিরুলের জমি হচ্ছে আমাদের পাশে যেটিও তারা ঠিক ৭০ বছর যাবত ভোগ দখল করে আসছে পারিবারিক বন্টন অনুযায়ী। উল্লেখ্য তার বাবা মোঃ আইউব খান এর সাথে ২০০৫ সালে তার স্বাক্ষরকৃত একটি বাটোয়ারা পত্র রয়েছে । আমাদের তারও আগে তার দাদা আফতাব খান এবং পরিবারের অন্যান্যরা মিলে এই একই ভাবে বন্টন করেছিল ।
আমাদের জমির পাশ থেকে রাস্তা যাবার কারণে সে আমাদের রাস্তার পাশ থেকে জমি দাবী করছে অথচ আমাদের জমিটি ছিল সম্পূর্ণ নোনা অনাবাদি তাদের অংশটি ছিল আবাদি। বহু বছর আগে আব্দুল করিম খান (আমাদের নানা) তাদের সাথে সামান্য জমি অদল বদল করতে চাওয়ায় তারা তখন বলে যে আমরা অনাবাদি জমি নিতে রাজি নই অথচ এখন তাদের উত্তরসূরী জহিরুল ইসলাম সেই অনাবাদি জমি নিতে চাচ্ছে ।

মিথ্যা প্রচারণা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি আমরা। কিছুদিন পূর্বে আমাদের জমিতে আমরা মাটি কাটতে গেলে তারা দলবল নিয়ে এসে কাজে বাধা দেয় এবং পরবর্তীতে তারা নিজেরাই থানা থেকে পুলিশ আনে
।পুলিশের একটি টিম এসআই সাইফুল এর নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তারা কোন প্রমাণাদি না পাওয়াতে কাজ বন্ধে অস্বীকৃতি জানায় পরবর্তীতে তারা থানায় যেতে বলে এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজটি আপাতত বন্ধ রাখতে বলেন । সম্পূর্ণ কাজটি সারারাত বন্ধ থাকায় আমরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতি সম্মুখীন হই যুক্তিসঙ্গত হতো, যতক্ষণ তারা বৈধ কাগজ দেখাতে না পারছে, ততক্ষণ আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে দেওয়া। বাস্তবে, থানার একটি সিদ্ধান্তের কারণে বরং আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। পরবর্তীতে থানায় যখন তারা কিছুই দেখাতে পারে না তখন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাদের কাজটি চালিয়ে যাবার অনুমতি দেন। জহিরুল ইসলাম গং এখন প্রচার করে বেড়াচ্ছে থানা নাকি আমাদের কে ফেভার করেছে অবৈধভাবে,যেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

পুরনো বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামালের মাধ্যমে জমি বণ্টনের মিথ্যা দাবি জহিরুল ইসলাম এর । এ ব্যাপারে আমাদের মন্তব্য একেবারেই পরিষ্কার পূর্বের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামাল কে জিজ্ঞাসা করা হোক যে তিনি এমন কোন জমি কাউকে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন কিনা ।

বাউফল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল বলেন আমার কাউকে জমি বুঝিয়ে দেয়ার ক্ষমতা নাই, জমি বুঝি দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র আদালতের আছে, জহিরুল সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট কথা বলেছেন।

ভুক্তভোগী সবুজ জানান আমাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি আত্মসাতের চেষ্টা করছে বহু বছর ধরে, যা নিয়ে মামলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেই মামলায় তারা পরাজিত হয়েছে— এর পূর্ণ প্রমাণাদি বিদ্যমান।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জালাল বলেন একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা গ্রহণ করেও জমি না দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তারা সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কাছেও গিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে। এরপর থেকে তারা এলাকায় গায়ের জোরে চলাফেরা করছে, বিভিন্ন জায়গায় হুমকি দিচ্ছে— “জমির কাছে গেলে সমস্যা হবে” ইত্যাদি কথা বলছে।

এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত মোঃ জহিরুলের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে মুঠোফোনে রিসিভ করেননি।

এলাকাবাসীর একান্ত দাবি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জহিরুল গং অপকর্ম দুর্নীতি থেকে রক্ষা করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানান এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে।

এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে আমরা কথা বলি পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার, বাউফল সার্কেল, পটুয়াখালী, জনাব আরিফ মুহাম্মদ শাকুরের সাথে । তিনি বলেন জহিরুল এবং তার মা আমার কাছে এসেছিল, আমি তাদেরকে বলি আপনারা পারিবারিকভাবে এটিকে মিটিয়ে নিন অথবা আদালতের দ্বারস্থ হন । থানায় নির্দেশ দিয়ে কাজ বন্ধ করতে আমি কাউকে পাঠায় নি। তবে আমি একজনকে ওখানকার পরিস্থিতি অবজারভেশন করতে বলেছিলাম যাতে বিশৃঙ্খল কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে যারা ৭০ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছে এবং তাদের কাগজপত্রের ভিত্তিতে তারা (জহিরুল) এই জমি কিভাবে দাবি করে আমার জানা নেই। জহুরুল যদি এই জমি দাবি করে তাহলে কোর্টে মামলা করে রায় নিয়ে আসতে হবে। মূলত জমি জমার বিষয় কোন কাজ করা পুলিশের এক্তিয়ারের এর বাইরে,
এতক্ষণ না সেখানে ফৌজদারি অপরাধ সংগঠিত হয়।
তিনি আরো জানান, তার নাম করে যে হুমকি ধামকি শক্তি প্রদর্শন জহিরুল করছে তার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।