দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট হতে আজ (১০-০৯-২০২৫ খ্রি.) ৪টি অভিযোগের বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
👉 অভিযান ০১:
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রধান কার্যালয়ে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ঘুষ দাবি করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা হতে একটি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। এনফোর্সমেন্টকালে সংগৃহীত ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ অফিসের এক কর্মকর্তা ঠিকাদারের নিকট থেকে দুই লক্ষ টাকা গ্রহণ করছেন। অর্থ লেনদেন প্রসঙ্গে উক্ত কর্মকর্তা তার বক্তব্যে দাবি করেন যে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারগণ তার ব্যবসায়িক পার্টনার এবং তার অফিসকক্ষে বসে ব্যবসায়িক অর্থ লেনদেন করেছেন। তবে, অফিস কক্ষে আর্থিক লেনদেনের কারণ এবং অর্থের উৎস ও প্রকৃতি সম্পর্কে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি মর্মে এনফোর্সমেন্ট টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও প্রমাণাদি বিস্তারিত পর্যালোচনার পর এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।
👉 অভিযান ০২:
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের আখিরা শাখা নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করা হয় এবং নদীর দুই পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়ে সংগৃহীত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পূর্ণাঙ্গরূপে পর্যালোচনান্তে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
👉 অভিযান ০৩:
বিআরটিএ, বগুড়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে ঘুস দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, বগুড়া কর্তৃক একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে টিম প্রথমে ছদ্মবেশে বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় তারা সেবা প্রাপ্তিতে কোনো অনিয়মের শিকার হচ্ছেন কি না এবং অর্থের বিনিময়ে সেবা নিতে হচ্ছে কি না-এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এর সঙ্গে অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলে প্রাসঙ্গিক রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনার পর এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।
👉 অভিযান ০৪:
সিএল্ট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নানা ধরনের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, উক্ত হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের নিয়মিত ও যথাসময়ে খাবার সরবরাহ করা হয় না। পাশাপাশি সরবরাহকৃত খাবারের মানও নিম্নমানের, যা রোগীদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটাতে পারে মর্মে প্রতীয়মান হয়। টিম লক্ষ্য করে, হাসপাতালের টয়লেটসমূহ অত্যন্ত অপরিষ্কার অবস্থায় থাকায় রোগী ও স্বজনরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এছাড়া সরকারি ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে রোগীদের তা না দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং সরকারি ওষুধ সমহারে বিতরণ করা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। অভিযানে কর্মরত কয়েকজন স্টাফের অনিয়মের প্রমাণ মেলে। বিশেষত পাঁচজন অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়মনীতি না মেনে গাড়ি পরিচালনা করছেন এবং তাদের লগবই যথাযথভাবে হালনাগাদ করা হয়নি এমনটি পরিলক্ষিত হয়। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত একজন কর্মচারী দুদক টিমকে জানান যে, তিনি গত তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না; বরং যথাসময়ে বেতন পরিশোধ না করে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে পরবর্তীতে তা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে প্রদান করা হয়। এসব কর্মকাণ্ড হাসপাতালের সার্বিক সেবায় অনিয়ম, রোগীদের আর্থিক ক্ষতি এবং দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলে টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। অভিযানকালে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও রেকর্ডপত্রের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশপূর্বক কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হবে।