
তামাকজনিত অকালমৃত্যু রোধ ও এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর আইন বাস্তবায়নে বিধিমালা প্রণয়নের তাগিদ
মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত কার্যকর বিধিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। বিধিমালা প্রণয়ন করা না হলে তামাকের ব্যবহার কমাতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তামাকের ব্যবহার কমানো ছাড়া অসংক্রামক রোগজনিত অকালমৃত্যু কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান, উপদেষ্টা -পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ।
আজ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ রোজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা)-এর উদ্যোগে আয়োজিত “এসডিজি অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আলোকে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এই আইন থেকে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের দাবি বাদ পরায় এসব তামাকজাত দ্রব্য নতুন আসক্তিপণ্য হয়ে উঠছে যা খুবই উদ্বেগজনক।
ঊক্ত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত সংসদ সদস্য (নওগাঁ – ৪) ও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকরামুল বারী টিপু বলেন, এসডিজি-৩-এর লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমানোর ক্ষেত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এসডিজি-৩(ক)-তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (FCTC) বাস্তবায়ন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে এসডিজি অর্জনের জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপস্থিত মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ বলেন, তামাক সেবনের কারণে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একদিকে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা সম্ভব, অন্যদিকে স্বাস্থ্যব্যয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে দেশের উৎপাদনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তামাকজনিত অকালমৃত্যু ও অসুস্থতা কমানোর পাশাপাশি এসডিজি-৩ অর্জন এবং একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অপরিহার্য।”
গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেলেন জেরিন খান, সংসদ সদস্য, মহিলা আসন-৯, মোছাঃ সাবিরা সুলতানা, সংসদ সদস্য, মহিলা আসন-১৪, ইকরামুল বারী টিপু, সংসদ সদস্য, নওগাঁ-৪, সেলিনা সুলতানা নিশীতা, সংসদ সদস্য, মহিলা আসন-৩৫, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. তানিয়া হক, অধ্যাপক, উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ও প্রকল্প সমন্বয়ক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, গণস্বাস্থ্য কমিউনিটি বেজড ক্যান্সার হাসপাতাল, এছাড়াও উপস্থিত গবেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।