
এস এম আনোয়ার
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকা কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের খিলা দক্ষিণ বাজারের কুখ্যাত ইউটার্ন অবশেষে বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে সেনাবাহিনী ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এই ইউটার্নটি বন্ধ ঘোষণা করে।
এখন থেকে সব যানবাহনকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার সামনে লুধুয়া পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন ইউটার্ন ব্যবহার করতে হবে। শনিবার বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সেনা কর্মকর্তা, হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খিলা দক্ষিণ বাজারের ইউটার্নটি গত তিন বছরে ৫৪টি দুর্ঘটনার সাক্ষী। এসব ঘটনায় ১১ জন যাত্রী, চালক ও পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
সবশেষ মঙ্গলবার দুপুরে এখানে যাত্রীবাহী ইজিবাইককে নিলাচল পরিবহনের একটি বাস চাপা দিলে দুইজন নিহত এবং আরও দুইজন আহত হন। নিহতরা হলেন স্থানীয় উল্লাপাড়া গ্রামের মো. শাহ আলম (৫৫) ও বাদল (১৮)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খিলা বাজারে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য বিভিন্ন যানবাহন উল্টো পথে চলাচল করে। এতে দ্রুতগতির বিপরীতমুখী যানবাহন বিভ্রান্ত হয়ে মুহূর্তেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ফোর লেন সড়ক চালুর পর থেকেই ইউটার্নটি মরণফাঁদে পরিণত হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বুধবার জেলা প্রশাসকের মাসিক উন্নয়ন সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনীর ২৩ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান এবং সওজের কর্মকর্তারা।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউটার্নটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয় এবং বিকল্প হিসেবে লুধুয়া পেট্রোল পাম্পের সামনের ইউটার্ন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন,
বিপজ্জনক ওই ইউটার্নে প্রতিটি দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল উল্টো পথে যান চলাচল।
জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার জানান,
প্রাণঘাতী ঝুঁকি বিবেচনায় ইউটার্নটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান বলেন,
জেলা প্রশাসনের উন্নয়ন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনাবাহিনী ও হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় আমরা ইউটার্নটি বন্ধ করে দিয়েছি। সবাইকে অনুরোধ করছি সড়ক আইন মেনে চলতে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা,
সংশ্লিষ্টদের আশা, ইউটার্নটি বন্ধ হওয়ায় যানজট যেমন কমবে, তেমনি কমে আসবে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাও।