1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
শিক্ষানবীশ আইনজীবী: কোর্ট বিল্ডিংয়ের এক ক্রীতদাস! - dailyainerkantho
৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| বুধবার| রাত ৯:৪৬|
শিরোনামঃ
শহীদ আবরার ফাহাদ-আধিপত্যবাদ বিরোধী চেতনার অমর প্রতীক : আতিকুর রহমান কামালী ’শুদ্ধ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে অর্জিত বিশেষ সম্মাননা রাজশাহী মহানগরবাসীকে উৎসর্গ করলেন রাসিক প্রশাসক শারদীয় দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। প্রভাবশালীর দখলে যাচ্ছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স এর ৩৮১.৭৫ শতাংশ জমি? 0xf3bec429 ইত্তেফাকুল উলামার বারহাট্টা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত শাইখুল হাদিস মুফতি ফেরদাউস আহমদ ডহরপুরী উদ্যোক্তা ইবিয়ান, আইইএলটিএস করার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা রাজশাহীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন: অপপ্রচার ও ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি ১০ম গ্রেড প্রদান, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতির সহযোগিতায় এম-ট্যাবের পাশে আছি- ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে Pathways to Higher Education in Foreign Countries শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শিক্ষানবীশ আইনজীবী: কোর্ট বিল্ডিংয়ের এক ক্রীতদাস!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, জুলাই ১০, ২০২৫,
  • 281 Time View

মো. জুনাইদ : দুইটি অপমানজনক অভিজ্ঞতা, যা আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। ১ জানুয়ারি ২০১৪—এই দিনটি আমার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিংয়ে একজন শিক্ষানবীশ আইনজীবী হিসেবে পথচলা শুরু করি। হৃদয়ে ছিল আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দৃঢ় সংকল্প। আত্মমর্যাদা ও সততার শক্ত ভীতের ওপর দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলাম। কিন্তু পেশাগত জীবনের শুরুতেই বুঝে গেলাম—এই পেশায় কেবল জ্ঞান বা নিষ্ঠা যথেষ্ট নয়। এখানে সম্মান অর্জনের আগে বহু অপমান গিলে নিতে হয়, মুখ বুঁজে সহ্য করতে হয় শ্রেণিবিন্যাসের নির্মম বাস্তবতা।
প্রথম অভিজ্ঞতা: আদালতের মাঝখানে অপমান
২০১৬ সালের শেষদিকের এক দিন। বিকেল তিনটার দিকে আমার সিনিয়রের নির্দেশে আমি চট্টগ্রামের একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যাই, একটি মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দি নোট করতে। নিয়ম মেনে পিয়নকে ‘খুশি’ করে নথি সংগ্রহ করে কাজ শুরু করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আদালতের পেশকার আমার দিকে চোখ তুলে বললেন, “নথি ফেরত দিন!” আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করলাম—“দয়া করে আমাকে কাজটা শেষ করতে দিন। প্রয়োজনে আপনাকেও খুশি করবো।”

আমি নিজের কাজটা শেষ করতে দৃঢ় ছিলাম, কিন্তু তিনি আমার কোনো কথায় কর্ণপাত না করে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলকভাবে আমার হাত থেকে নথিটি ছিনিয়ে নেন। যেন আমি কেউ না, যেন আমার কোনো অবস্থান, কোনো সম্মান নেই। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ থেকে সাতজন আইনজীবী। আমি অপমানে কাঁপতে কাঁপতে তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু কেউ এগিয়ে এলেন না—কারণ আমি ছিলাম একজন ‘নন-এনরোল্ড’ শিক্ষানবীশ আইনজীবী।

দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা: “স্যার” না বলার অপরাধে লাঞ্ছনা
শুধু আদালতের পেশকার নয়, শিক্ষানবীশ জীবনে আরও একটি অপমান আমাকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকে চট্টগ্রাম বারের একজন সিনিয়র আইনজীবী আমার পরিচিত ও রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই সূত্রে আমি তাকে ভাই বলেই ডাকতাম।
শিক্ষানবীশ হিসেবে কোর্টে যাত্রা শুরুর সপ্তাহ খানেকের মধ্যে এক অনুষ্ঠানে, তাঁর অনুপস্থিতিতে আলোচনা চলাকালীন সময়ে আমি তাকে “ভাই” বলে উল্লেখ করি।

তখন এক তরুণ আইনজীবী, যিনি তোষামোদে অভ্যস্ত, হঠাৎ করে আমাকে আক্রমণ করে বসেন—”আপনি স্যার না বলে ভাই বললেন কেন?” যেন ‘স্যার’ না বলা মানে গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি নিছক তুচ্ছ হলেও, ওই মুহূর্তের অপমান আর লাঞ্ছনার তীব্রতা আমি আজও ভুলতে পারিনি। সবচেয়ে কষ্টের জায়গা ছিল এই যে—একজন শিক্ষানবীশ আইনজীবীর অপমানে কাউকেই বিচলিত হতে দেখা যায় না।

নীরবতা ও নিঃসঙ্গতা: শিক্ষানবীশদের এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা
এই দুই ঘটনার পর আমি বহুজনের কাছে ন্যায়বিচারের জন্য গিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশই বলেছিলেন—“মেনে নাও, এখানকার নিয়ম এটাই। এত আত্মমর্যাদা নিয়ে টিকতে পারবে না।” শুধু একজন বড় ভাই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যিনি পরদিন গিয়ে ওই পেশকারকে মুখোমুখি করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম বারের পাঠাগার সম্পাদক নির্বাচিত হন—যার প্রচারণায় আমি নিরলসভাবে কাজ করেছিলাম। সেই সময়ে অভিযোগ করার প্রক্রিয়া আমার জানা ছিল না। জানলেও, একজন ‘শিক্ষানবীশ ক্রীতদাসের’ দরখাস্ত আদৌ গুরুত্ব পেত কি না, তা নিয়েও আজও সন্দেহ রয়ে গেছে।

আজ বিচারকের আসনে বসে…
আজ আমি একজন বিচারক। কিন্তু যখনই আমার আদালতে কোনো শিক্ষানবীশ আইনজীবী প্রবেশ করে, আমার অতীতের সেই অপমানগুলো স্মৃতিতে ফিরে আসে। চোখে জল এসে পড়ে। আমি জানি, সম্মানের আকাঙ্ক্ষা শুধু অভিজ্ঞদের জন্য নয়—নতুন পথিকের জন্যও তা সমান জরুরি। প্রত্যেক মানুষ, শিক্ষানবীশ হোক বা সিনিয়র, বিচারক হোক বা বিচারপ্রার্থী— সবারই প্রাপ্য ন্যূনতম সম্মান ও মানবিক আচরণ।

লেখক : মো. জুনাইদ; সিনিয়র সহকারী জজ, সুনামগঞ্জ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com