1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
হাত-পা ছাড়া জন্ম নেওয়া সেই লিতুন জিরা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। - dailyainerkantho
২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| শুক্রবার| সকাল ৮:২২|
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালার উদ্বোধন আদমদীঘিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ ​ঠাকুরগাঁওয়ে বিভাগীয় হিফজ ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতার জেলা বাছাই সম্পন্ন: বিজয়ী ২১ শিক্ষার্থী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসন করুন- মো: তোফায়েল সরকার ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিমা বিসর্জন ঘাট পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার ইয়াকুব আলীর উপরে বর্বর রচিত হামলার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাই- বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন ঠাকুরগাঁওয়ে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা জানালেন শরিফুল ইসলাম শরীফ মাঠে সরব জহিরুল ইসলাম, বাইক শোডাউনে চিরামে ব্যাপক সাড়া ইবিতে নির্মাণাধীন হলের কাজ চলাকালে বাঁশ ভেঙে পড়ে শ্রমিক আহত ১১তম গ্রেডসহ ৩ দফা দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা

হাত-পা ছাড়া জন্ম নেওয়া সেই লিতুন জিরা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, জুলাই ১০, ২০২৫,
  • 135 Time View

যশোরের মণিরামপুরে হাত-পা ছাড়া জন্ম নেওয়া সেই অদম্য মেধাবী লিতুন জিরা এসএসসির ফলাফলেও চমক দেখিয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বসিত লিতুন জিরার পরিবার। ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে লিতুন জিরা জানায়, সে আরও ভালোভাবে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হতে চায়।

অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে বলীয়ান লিতুন জিরা একের পর এক পরীক্ষায় মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। ভবিষ্যতে এই মেধাবী ও লড়াকু সন্তান সমাজের পিছিয়ে পড়া ও আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। মণিরামপুর উপজেলার গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় লিতুন জিরা।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সাতনল খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগম দম্পতির দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছোট লিতুন জিরা। বড় ছেলে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। লিতুন জিরা পিইসি (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা) ও জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর, প্রাথমিকে বৃত্তি লাভ, শ্রেণির সেরা শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চায়ও রেখেছে চমক জাগানো অবদান। তার একাগ্রতা আর অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনেছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি বা পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমেও স্বীকৃতি পেয়েছে সে।

জানা যায়, সব বাধা টপকে সমাজের আর জন প্রতিভাবান স্বাভাবিক শিশুর মতোই এগিয়ে চলেছে লিতুন জিরা। বরং এক্ষেত্রে স্বাভাবিক শিশুর চেয়েও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে সে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পর পর দুই বছর লিতুন জিরা উপজেলা পর্যায়ে মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রচনা প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন, একই সালে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় গোল্ড মেডেল অর্জনসহ একই বছরের ৪ জানুয়ারি খুলনা বেতারে গান গাওয়ার সুযোগ পায়।

লিতুন জিরার মা জাহানারা বেগম আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, জন্মের পর মেয়ে লিতুন জিরার ভবিষ্যৎ চিন্তায় অনেক রাত চোখের পানি ফেলেছেন। যার দুই হাত-পা নেই, সেই মেয়ে বড় হয়ে কিই বা করতে পারবে? এমন অজানা শঙ্কায় আঁতকে উঠতেন তিনি। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের পড়ালেখার প্রবল আগ্রহ এবং মেধার স্বাক্ষরতায় সেই আশঙ্কা আজ আশার আলোয় রূপ নিয়েছে তার কাছে।

বাবা কলেজশিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি যে কলেজে চাকরি করেন, দীর্ঘ ১৯ বছরেও সেটি এমপিওভুক্ত হয়নি। তারপরও ছেলে-মেয়েদের কখনো অভাব বুঝতে দেননি। হাঁটাচলা করতে না পারা লিতুন জিরাকে সেই শিশু বয়স থেকে কর্দমাক্ত পথ মাড়িয়ে ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হুইল চেয়ারে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। এসএসসিতেও সে প্রত্যাশিত ফলাফল পেয়েছে। এখন কলেজেও তাকে প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করতে হবে। লিতুন জিরা ভবিষ্যতে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com