1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
আইটিপি বনাম অ্যাডভোকেট: পেশাগত পরিচয়ে পার্থক্য কতটা গভীর? জেনে নিন আইন বলছে কী! - dailyainerkantho
৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বুধবার| দুপুর ১:১৯|

আইটিপি বনাম অ্যাডভোকেট: পেশাগত পরিচয়ে পার্থক্য কতটা গভীর? জেনে নিন আইন বলছে কী!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৭, ২০২৫,
  • 170 Time View

বাংলাদেশে এখন অনেকেই আয়কর পরামর্শদাতা বা ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার (ITP) হয়ে কাজ করছেন। করদাতাদের সহায়তা করছেন রিটার্ন দাখিলে, আপিল শুনানিতে বা ট্যাক্স রেকর্ড হালনাগাদ করতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এঁরা কি নিজেদের “আইনজীবী” হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন?

উত্তর: না, পারেন না—যদি না তাঁরা বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী হন।

চলুন বিষয়টি আইনের আলোকে একটু বিশ্লেষণ করি।

কে হতে পারেন ‘আইনজীবী’?
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২ (The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972) অনুযায়ী, “Advocate” বলতে সেই ব্যক্তিকেই বোঝানো হয়েছে, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২

✓ ধারা ২(এ) – “Advocate” অর্থ সেই ব্যক্তি, যিনি এই অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত ও এনরোল্ড।
অর্থাৎ, বার কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত না হলে কাউকে “Advocate” বলা যাবে না।

যিনি বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত এবং বার কাউন্সিল থেকে অনুমোদিত।
এ সংজ্ঞা অনুযায়ী, আইনজীবী হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হয়:

1. স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি বা সমমানের ডিগ্রি।
2. বার কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত এনরোলমেন্ট পরীক্ষা (MCQ, Written ও Viva) উত্তীর্ণ হতে হবে।
3. বার কাউন্সিলের রেজিস্টারে নাম অন্তর্ভুক্ত করে আইনজীবী সনদ (Enrollment Certificate) সংগ্রহ করতে হবে।

এই সনদ ছাড়া কাউকে আইনজীবী পরিচয়ে নিজেকে তুলে ধরার অধিকার নেই। এমনকি বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী, নিজের নামের পাশে ‘Advocate’ ব্যবহার করাও অপরাধ।

তাহলে ITP কারা?
ইনকাম ট্যাক্স অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও পরীক্ষার মাধ্যমে যারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর অনুমোদন নিয়ে কর-সংক্রান্ত কাজ করতে পারেন, তাঁরা ITP হিসেবে বিবেচিত হন। তাদের কাজের সীমা:

√ আয়কর রিটার্ন তৈরি ও দাখিল
√ করদাতার পক্ষে ট্যাক্স অফিসে তথ্য উপস্থাপন
√ কর আপিল বা পুনর্মূল্যায়ন আবেদন প্রস্তুত

তবে তারা কোর্টে মামলা পরিচালনা করতে পারেন না এবং “আইনজীবী” পরিচয় দিতে পারেন না।

তাহলে কি ITP আইনজীবী হতে পারেন?
হ্যাঁ, ITP যদি চান, তবে তিনি নিজ উদ্যোগে আইনের শিক্ষাগ্রহণ করে এলএল.বি ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন এবং বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে এনরোল হতে পারেন।
সেক্ষেত্রে তিনি ITP ও আইনজীবী—দুই পরিচয়ই বহন করতে পারবেন। কিন্তু শুধুমাত্র ITP হওয়ার কারণে আইনজীবী হওয়া যায় না।

আইন লঙ্ঘনের পরিণাম কী?
আইনজীবী না হয়েও “Advocate” পরিচয় দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২ এর ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী–
কোনো ব্যক্তি যদি অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত না হয়েও আইন পেশা পরিচালনা/ পরিচয় প্রদান করেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। কেউ যদি বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত না হয়েও নিজেকে আইনজীবী বলে পরিচয় দেয়, বা এ ধরনের আচরণ বা কার্যকলাপ করে—তাহলে সে দণ্ডনীয় অপরাধ করছে।

বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী, আইনজীবী সনদ ছাড়া কেউ যদি নিজেকে “Advocate” পরিচয় দেন বা বিজ্ঞাপনে তা উল্লেখ করেন, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার রয়েছে বার কাউন্সিল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

শেষ কথা: “আইটিপি আর আইনজীবী—দুই পেশা, দুই পরিচয়। একটিতে কর পরামর্শ, অন্যটিতে বিচার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব।”
জনগণের সচেতনতা ও পেশাগত মর্যাদার সুরক্ষায় প্রতিটি পরিচয় যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটাই এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র:
•বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২
•ইনকাম ট্যাক্স অধ্যাদেশ, ১৯৮৪
•জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশিকা
•বার কাউন্সিলের অফিসিয়াল নোটিশ ও আদেশসমূহ

লেখক :
বোরহান উদ্দিন খান (শাকের)
এডভোকেট
জজ কোর্ট ফেনী
ইমেইল: advborhan24@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com