আজকের সাক্ষ্যগ্রহণ ট্রাইব্যুনাল–২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলে অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অন্যান্য সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়, যেখানে শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা সাক্ষ্য দেন।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশের ভ্যানে তুলে লাশ পোড়ানো হয়। ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিল, কিন্তু তাকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি। মামলায় মোট ১৬ আসামির মধ্যে আটজন গ্রেফতার আছেন, বাকি আটজন পলাতক।
আসামিদের মধ্যে আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেছেন এবং রাজসাক্ষী হয়ে পূর্ণাঙ্গ সত্য প্রকাশ করতে চেয়েছেন। গ্রেফতার অন্য সাতজন হলেন সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের ডিবি সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আব্দুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
মামলায় অভিযোগ গঠনের পর প্রকাশ করা হয়েছে, ৫ আগস্ট ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশভ্যানে রেখে লাশে আগুন ধরানো হয়। আগুন দেওয়ার সময় একজনকে জীবিত অবস্থায় পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারা হয়। এর আগে ৪ আগস্ট একজনকে হত্যা করা হয়। মামলায় ৬২ জন সাক্ষী, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি এবং দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়েছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।