
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে চলমান মানবপাচারের শৃঙ্খল ভাঙতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের গত দুই মাসে এই সীমান্ত এলাকা থেকে নারী, শিশু ও পুরুষসহ অন্তত ৭২০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধপথে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে এদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী এবং শিশু রয়েছে। অনেকে দালালের প্রলোভনে পড়েছেন। সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে ভারতে গিয়ে সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল অনেকের।
অভিযানকালে বিজিবি বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য, ভারতীয় মুদ্রা, মাদকদ্রব্য এবং ভুয়া কাগজপত্রও জব্দ করেছে। বিজিবির দাবি, মানবপাচার রোধে এই সীমান্ত এখন বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার বলেন,
> “সীমান্তে চোরাচালান ও মানবপাচার রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। যারা দালালচক্রের মাধ্যমে এ ধরনের কাজ করছে, তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। দালালরা গ্রামের দরিদ্র মানুষকে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করে। এভাবে বছরের পর বছর সীমান্ত পেরোনোর প্রবণতা বেড়েই চলেছে।
আটককৃতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে, যা উদ্বেগজনক। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অসচেতনতা এবং চোরাচালান সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আটককৃতদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দালাল চক্র চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের কাছে এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করছে—মানবপাচার কতটা বিপজ্জনক ও ব্যাপক। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা না বাড়ালে এ সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।