
আতিকুর রহমান কামালী :
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি এবং এর ভিত্তিতে গণভোট আয়োজনের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে মুখ খুলেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরকৃত সংস্কারনামা ছাড়া অন্য কোনো কিছুর ওপর গণভোট দেওয়ার অধিকার কারো নেই।
গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর) অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের জন্য ‘বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানাল।
নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিলে মানা হবে না,
মাওলানা ইউসুফী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “নিবন্ধনিত রাজনৈতিক দলগুলোর দুইজন করে স্বাক্ষরকৃত সংস্কারনামা ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর উপর গণভোট দেওয়ার অধিকার কারো নেই।”
তিনি আরও বলেন, “না নোট অব ডিসেন্ট বাদ দেওয়ার অধিকার কারো আছে, না কোনো প্রশ্ন জোড়ে দেয়ার অধিকার আছে।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর উত্থাপিত নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) বা আপত্তির বিষয়গুলোকে গণভোটের প্রশ্নে উপেক্ষা করছে। তিনি মনে করেন, দলগুলোর স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংস্কার প্রস্তাবগুলো গণভোটের জন্য উত্থাপন করা উচিত, কোনো একতরফা ‘বাস্তবায়ন আদেশ’ দ্বারা নয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতি-নির্ধারকদের লক্ষ্য করে মাওলানা ইউসুফী শিক্ষার ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “অধিক শিক্ষিতরা শিক্ষার ক্যু করে থাকে।
তিনি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা যারা বর্তমানে দেশ চালাচ্ছেন আমরা আপনাদেরকে সহযোগীতা করে আসছি। এর অর্থ এই নয় যে, আপনারা যাচ্ছে তাই করবেন। আপনারা উচ্চ শিক্ষিত, আমরা এটা স্বীকার করি। তবে আপনারা ছাড়া আরো শিক্ষিত লোক এদেশে আছে এটাও আপনারা মনে রাখবেন বলে আশা রাখি।
মাওলানা ইউসুফীর এই বক্তব্যটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, সহযোগিতা করার পরও সরকার যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও ভিন্নমতকে উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না।