
ফৌজদারি কার্যবিধির যুগান্তকারী সংস্কার :
১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ১০ হাজারের পরিবর্তে ৫ লাখ।
২য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ৫ হাজারের পরিবর্তে ৩ লাখ এবং
৩য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ২ হাজারের পরিবর্তে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিতে পারবেন।
* আমলযোগ্য অপরাধের সন্দেহে ৫৪ ধারায় পুলিশের গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা অবারিত থাকছে না।
*কগনিজেবল অফেন্স পুলিশের সামনে ঘটতে হবে বা পুলিশকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে আসামি এই অপরাধ করেছে। সন্তুষ্টির কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে।
♦গ্রেপ্তার করলেই মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট পূরণ করতে হবে পুলিশকে। গ্রেপ্তারকৃতের সব আইনি সুরক্ষা প্রতিপালিত হয়েছে কি না, মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্টে তার চেকলিস্ট পূরণ করতে হবে, যা গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
♦ পুলিশকে পরিচয় প্রকাশ করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
♦ সাক্ষী ও ভিকটিমের সুরক্ষায় আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবে।
♦ আদালত সাক্ষীর প্রয়োজনীয় খরচ দিতে পারবে।
♦ মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হলে বাধ্যতামূলক সাজা দিতে হবে এবং এক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বৃদ্ধি করে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা করা হয়েছে।
♦ এক মামলায় পুলিশ রিমান্ড কোনোভাবে ১৫ দিনের বেশি দেয়া যাবে না, আগে আনলিমিটেড দেয়ার সুযোগ ছিল।
♦ গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা রিমান্ডের পর আসামি অসুস্থ বা আহত হলে তাকে ডাক্তার কর্তৃক পরীক্ষা করতে হবে এবং আঘাতের কারণ নিশ্চিত হতে হবে, তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশের দায় থাকলে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
♦ গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি চাইলে তাকে আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে।
♦ গ্রেপ্তারের পর গ্রেপ্তারকৃতের পরিবারকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে।
♦ যে সংস্থাই গ্রেপ্তার করুক না কেন, গ্রেপ্তারের তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় জিডিভুক্ত করতে হবে।
♦ প্রত্যেক থানায় ও জেলা/ মেট্রো পুলিশ হেডকোয়ার্টারে প্রতিদিনের গ্রেপ্তারের তথ্য ও তালিকা প্রদর্শন করতে হবে।
♦ দণ্ডবিধির ৩২৫ জামিনঅযোগ্য ও ১৪৩ ধারা আপসযোগ্য করা হয়েছে।
১। সংশোধিত ধারা সমূহ:
নিম্নলিখিত ধারাগুলো সংশোধন করা হয়েছে—
৩২, ৫৪, ৬৯, ৭০, ১৬৭, ২৪৭, ২৫০, ২৬০, ৩৯৬, ৪১৪, ৪৯৮ এবং ৪৯৯।
২। নতুন যুক্ত ধারা সমূহ:
নিম্নলিখিত নতুন ধারাগুলো সংযোজন করা হয়েছে—
৪৬-এ, ৪৬-বি, ৪৬-সি, ৪৬-ডি, ৪৬-ই, ৫৪-এ, ৬৭-এ, ১৬৭-এ, ১৬৭-বি, ১৭৩-এ এবং ২৬৪-এ।
ধন্যবাদ সবাইকে –
এডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস,বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট