
এস এম আনোয়ার
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত বর্জ্য ও নষ্ট পানি অবাধে মিশছে ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদীতে। বছরের পর বছর অপরিকল্পিতভাবে শিল্পবর্জ্য ফেলার কারণে নদীর পানি এখন কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। নদীজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দূষণের ভয়াল থাবায় বিলীন হতে বসেছে জীববৈচিত্র্য। একসময় মাছে ভরা ও সৌন্দর্যে ঘেরা ডাকাতিয়া নদীতে এখন আর দেখা মেলে না ছোট-বড় কোনো মাছের। এতে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ,বিভিন্ন কল-কারখানা রাতের আঁধারে কিংবা গোপনে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও বর্জ্য নদীতে ফেলছে। এসব বর্জ্যের কারণে নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নদীর আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ, ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। অনেক এলাকায় পানি দূষণের কারণে কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, একসময় ডাকাতিয়া নদী ছিল এলাকার মানুষের জীবিকা, সৌন্দর্য ও বিনোদনের অন্যতম উৎস। জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একসময় ডাকাতীয়া নদীতে পাওয়া যেত হাজারো প্রজাতির দেশীয় মাছ,কিন্তু বর্তমানে নদীতে মাছ তো দূরের কথা, পানিতে টিকতে পারছে না জলজ প্রাণীও। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে পড়েছে ভয়াবহ হুমকির মুখে।
সচেতন মহল বলছে, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে শিল্পকারখানাগুলো বেপরোয়াভাবে নদী দূষণ করে চলেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অদূর ভবিষ্যতে ডাকাতিয়া নদী পুরোপুরি মৃত নদীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজালা পারভীন রুহি বলেন, ডাকাতিয়া নদীর পানি প্রবাহে যেসব বাঁধ সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো অতি দ্রুতই অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পানি চলাচল নিশ্চিত করে ডাকাতিয়ার হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং দায়ী শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ডাকাতিয়া নদী রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পরিবেশ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।