
এস এম আনোয়ার
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে অনেক শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক জানতে চাইছেন—হাম কেন বাড়ছে, কীভাবে ছড়ায় এবং কীভাবে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা যায়।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহারিয়ার জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দিলে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে ওই বাতাসে শ্বাস নিলে বা দূষিত স্থানে স্পর্শ করে চোখ-মুখে হাত দিলে সহজেই অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, হামের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো টিকাদান। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় সাড়ে ৪০০ ভায়াল টিকা মজুত রয়েছে, যা দিয়ে দুই হাজারের বেশি শিশুকে টিকা প্রদান করা সম্ভব। গত এক সপ্তাহে ৮ জন শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
রোগটির সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজালা পারভীন রুহি বলেন, হামের বিস্তার রোধে ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতনতা, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।