
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত ‘মিঝি ব্রিকস’ নামের ইটভাটা বহু বছর ধরে কোনো বৈধ ছাড়পত্র ছাড়াই অবাধে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে চুল্লি ভেঙে দিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে লাল সাইনবোর্ড টানিয়ে বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবু থেমে নেই ইটভাটার কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মিঝি ব্রিকসের মালিক রাতে পুনরায় চুল্লিতে আগুন জ্বালিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন জরিমানা করলেও কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি।
প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সম্প্রতি বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা, পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর গণস্বাক্ষরসহ লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও বন্ধ হয়নি মিঝি ব্রিকসের কার্যক্রম।
স্থানীয়রা জানান, ইটভাটার চারপাশে রয়েছে ঘনবসতি, একটি মসজিদ, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসা। নাথেরপেটুয়া-হাসনাবাদ প্রধান সড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় প্রতিদিন শত শত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারী কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি কাটার ফলে কৃষিজমি ক্রমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফসলের উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। বর্ষায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
আইন-আদালতের কোনো নির্দেশই এখানে মানা হয় না। প্রশাসন অভিযান চালালেও তারা রাতে আবার আগুন ধরিয়ে দেয়। আমাদের বাচ্চারা ধোঁয়ার মধ্যে বড় হচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত মিঝি ব্রিকসসহ সব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।