
এই সংশোধনী শুধু আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, জরিমানার পরিমান ব্যাপক বাড়ার ফলে অপরাধপ্রবণতার সঙ্গে উচ্চ আদালতে মামলার জট ও সময়ক্ষেপণ কমবে।
১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী, আদালতে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্ন বর্ণিত দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা আছে—
* মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটরা পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন।
* দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটরা তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন।
* তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটরা দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন।
সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধি অধ্যাদেশে ৩২ ধারায় বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের আর্থিক জরিমানার সীমা বাড়ানো হয়েছে—
* ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটরা এখন ১০ হাজার টাকার বদলে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা
* ২য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটরা এখন ৫ হাজার টাকার বদলে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা
* ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটরা এখন আগের ২ হাজার টাকার বদলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা
এবিষয়ে বিজ্ঞ আইনজীবীদের অভিমত, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবমুখী’ পদক্ষেপ। আগে ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানার ক্ষমতা খুবই সীমিত ছিল। ফলে অনেক অপরাধের সাজার অপর্যাপ্ত হত। আগে বারবার সংঘটিত হওয়া অপরাধের ক্ষেত্রে সামান্য জরিমানা দিয়ে দায়মুক্তি সম্ভব হত। ফলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা কমত এবং অপরাধপ্রবণতা কমানো যেত না। এছাড়া, বড় অঙ্কের জরিমানার প্রয়োজন হলে মামলাগুলো উচ্চ আদালতে পাঠাতে হতো, ফলে মামলার জট ও সময়ক্ষেপণ বেড়ে যেত।