
শাহ সুফি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আব্দুল হান্নান আল হাদী।
একাধারে সমাজসেবক, প্রতিভাবান চিন্তক বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী এ.এইচ.এম. আব্দুল হাদী ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ৪ জুলাই টাঙ্গাইল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। একাডেমিক জন্ম তারিখ ৩০.০৪.১৯৫৩ খ্রি.। পিতা কবি শেখর জহীর-বিন-কুদ্দুস (বিএ) পেশায় ছিলেন একজন সুসাহিত্যিক ও সরকারি চাকরিজীবী। মাতা মিসেস হাজেরা জহির সুগৃহিণী। শৈশবকাল থেকেই তিনি মেধাবী। তিনি সৈয়দ বংশের লোক। চিন্তুক বুদ্ধিজীবী অঙ্গনে তার নাম শাহসুফী ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আব্দুল হান্নান আল হাদী, কবিতায় সৈয়দ আল হাদী। তিনি ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে সরকারি বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় হতে কয়েকটি বিষয়ে লেটার নিয়ে প্রথম বিভাগে এস.এস.সি., পরবর্তীকালে করটিয়া সা’দত কলেজ হতে এইচ.এস.সি. এবং প্রথমে বুয়েটে ভর্তি হন। পরে রাজশাহী (RUET) ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বিন্দুবাসিনী স্কুলের ক্যাপ্টেন ও মুকুল পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র থাকাকালে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে স্বরচিত কবিতা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম হন। স্কুলে রোভার স্কাউট ছিলেন। তিনি সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিস প্রশিক্ষণে প্রথম স্থান দখল করেন। তিনি অষ্টম শ্রেণিতে মেধা বৃত্তি লাভ করেন এবং ইন্টার পাকিস্তান স্কুল বৃত্তিও লাভ করেন। রুয়েটে পড়াকালীন তিনি রাজশাহীস্থ টাঙ্গাইল মাহফিলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই প্রতিভাবান ছাত্র শিক্ষাজীবন শেষ করতে না করতেই প্রথমে কনসালটিং ফার্মে যোগদান করেন।
পরে একটি খ্যাতিসম্পন্ন প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরিতে নিয়োজিত থাকার পর স্বীয় মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনাল লি. প্রতিষ্ঠা করে আজ অবধি তার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি বঙ্গভবন ও ওসমানী মিলনায়তন, রাইফেল স্কোয়ার ও বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে কনসালটেন্ট পরিচালক (CIL) (ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল) হিসেবে এক যুগ কর্মরত ছিলেন। পেশাগত মান বৃদ্ধির জন্য তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণের লক্ষ্যে চীন, জাপান, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতসহ পূর্ব-দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ব্যাপকভাবে সফর করেন এবং ক্যারিয়ার (ইউএসএ) ও স্যানিও (জাপান) কোম্পানি হতে এয়ারকন্ডিশনিং-এর উপর ডিজাইন ও ট্রেনিং গ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম ও কবিতা লিখে আসছেন। তিনি বাংলাদেশ এপেক্স ক্লাবের সহ-সভাপতি, ঢাকাস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি ও উক্ত সংগঠনের উপদেষ্টা, সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং আজীবন সদস্য হিসেবে আছেন। বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলা সমিতি, ঢাকার একজন নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য হিসেবেও আছেন। ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর আজীবন ফেলো, ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক, হিফাজতে খতমে নবুয়ত আন্দোলন, বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)-এর স্ট্যান্ডিং কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। পাক্ষিক ইসলাম আলোড়ন এর উপদেষ্টা, রিজেন্ট প্লাজা বিল্ডিং মালিক সমিতির সভাপতি, জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন নজরুল সেনা-টাঙ্গাইল জেলার প্রতিষ্ঠাতা সাহিত্য সম্পাদক। তিনি একজন তুখোড় বক্তা ও পুরস্কারপ্রাপ্ত বিতার্কিক এবং একজন প্রাবন্ধিক। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। বাংলাদেশ খিলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা হিসেবে ধর্মীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। পারিবারিক জীবনে তিনি সাফিনা আখতার খানম এম.এ.-এর সাথে শুভ পরিণয়ে আবদ্ধ হন। তিনি পাঁচ সন্তানের আদর্শ জনক। সন্তানগণ যথাক্রমে ডা. নাওরিন হাদী এম.বি.বি.এস. অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত ও পিএইচডি শিক্ষারত এবং তার স্বামী ড. তাসাদ্দুক ইমাম অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বড় ছেলে আফনান আল হাদী সরকারি SUST-এর ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র অবস্থায় ইন্তেকাল করেন ও আফসান আল হাদী বিএস-সি ইঞ্জিনিয়ার, লুবাইনা হাদী বুয়েটের এমএসসি ইঞ্জিনিয়ার ও সুহাইনা হাদী ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল ও কলেজে পড়া শেষ করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজিতে এমএস ১ম শ্রেণিতে ১ম। ধর্মীয় ক্ষেত্রে প্রকৌশলী হাদী কসরে হাদী খানকা শরীফ-এর প্রতিষ্ঠাতা পীর সাহেব। তিনি পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব মজলিশে তাহাফফুজে খতমে নবুয়তের আমির ও খানকা সিরাজিয়ার পীর কেবলা হযরত মাওলানা খাজা খান মুহাম্মদ (র.) সাহেবের এজাজত প্রাপ্ত। তিনি ভারতের ইউপি প্রদেশের খানকা এনায়েতিয়ার পীর কেবলা হযরত মাওলানা মরহুম ওবায়েদুল্লাহ খান (র.) সাহেবের একজন খলিফা। মরহুম পীরে মোকাম্মেল হযরত মাওলানা ওবায়েদুল্লাহ্ খান হুজুর মোজাদ্দেদ আল ফেসানী (র.) এর দরগার একজন দোয়াগীর ছিলেন। শাহ সুফী সৈয়দ আল হাদী সুদীর্ঘ ২৫ বৎসর যাবত উক্ত মোকাম্মেল পীর সাহেবদ্বয়ের যাবতীয় সবক ও খেদমত সমাপ্ত করে সাফল্য লাভ করে খেলাফত প্রাপ্ত হন এবং বর্তমানে আলীয়া নকশবন্দীয়া ও মোজাদ্দেদীয়ার (ও খাস মোজাদ্দেদীয়ার) চার তরিকার খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ছায়ানীড়ের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক, বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য।