
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদীর উপকুলে বসবাস রত চরাঞ্চলের মানুষের একমাত্র আয়ের উৎস চাষাবাদ। বেঁচে থাকার জীবন যুদ্ধে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর উপকুলবর্তী সহ বালুচরে কাউন চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন জীবন যুদ্ধে হাড় না মানা এই অঞ্চলের মানুষ গুলো। একসময় এ জনপদ গুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাউন চাষ হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন
বৃদ্ধি পাওয়ায় ধীরে ধীরে কাউন চাষ হারিয়ে গেলেও ফের নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে দেওয়ানগঞ্জের কাউন চাষীরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন, চিকাজানী ইউনিয়ন, চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের উঁচু অঞ্চলসহ যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে জেগে ওঠা চর গুলোতে নতুন করে কাউন চাষ করা হচ্ছে । কিন্তু ফসলটি প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে হলেও আবারো নতুন করে চাষে আগ্রহ বাড়ছে যেন কৃষকের। এ অঞ্চল গুলোতে বারো মাসে ১৩ ফসল উৎপাদন করছেন চাষিরা। ভুট্টার মৌসুম শেষ করে ঐ জমিতে কাউন চাষ করে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন কৃষকেরা। চর বাহাদুরাবাদ এলাকার কৃষক খাইরুল ইসলাম বলেন, ভুট্টার মৌসুম শেষ করে জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে, আবার পাট
চাষ করে লোকসান গুনতে হয়। তাই কাউনের চাষ করেছি। কাউন চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ৫-৭ মণ ফলন পাওয়া যায়। যা আগের তুলনায় প্রায় এখন ৩ গুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। বাজার মূল্য ১,৬০০-১,৭০০ টাকা মণ বিক্রি করা যায়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর আজাদ দৈনিক জনকণ্ঠ কে বলেন, দেওয়ানগঞ্জে আবারো নতুন করে
কৃষকরা কাউনের চাষাবাদ শুরু করেছেন। তবে কাউনসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং
দেওয়ানগঞ্জে কাউনের বাম্পার ফলন হচ্ছে।