পরিবারের কারও হার্টের সমস্যা থাকলে সেটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে “ফ্যামিলিয়াল হিস্টরি” বা “পারিবারিক ইতিহাস” বলা হয়। এটি হৃদরোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রিস্ক ফ্যাক্টর। অর্থাৎ, যদি আপনার বাবা-মা, ভাইবোন, দাদা-দাদি বা নানা-নানির মধ্যে কারও হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ, হৃৎপিণ্ডের ব্লকেজ বা স্ট্রোক হয়ে থাকে, তবে আপনারও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা গড়ে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। কারণ কিছু জিনগত (জেনেটিক) বৈশিষ্ট্য বাবা-মা থেকে সন্তানের শরীরে চলে আসে, যেগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে শুধুই জিন দায়ী নয়। পরিবারে এক ধরনের জীবনধারা বা খাদ্যাভ্যাসও থাকতে পারে যা একাধিক প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এবং হার্টের রোগে ভূমিকা রাখছে। যেমন—অতিরিক্ত তেল-মসলা খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব, ধূমপান, অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ ইত্যাদি। এগুলো যদি পরিবারে স্বাভাবিক অভ্যাস হিসেবে গড়ে ওঠে, তাহলে সেটা সন্তানদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জিনগত এবং পরিবেশগত—দুই দিক থেকেই ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই অবস্থায় করণীয় হলো, নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতি সচেতন থাকা এবং নিয়মিত চেকআপ করা। যারা জানেন যে তাদের পরিবারে হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের উচিত অন্তত ২৫ বা ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ব্লাড সুগার, ইসিজি ইত্যাদি টেস্ট করানো। কারণ অনেক সময় হার্টের সমস্যার কোনো লক্ষণ দেখা দেয় না, অথচ শরীরের ভেতরে তা ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে।







