
পায়রা বন্দর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি বড় জাহাজ ভেড়ানো।
কিন্তু বছর ঘুরে গেছে, একটি জাহাজও বন্দরে নোঙ্গর করেনি, কেন? কারণ নদীর গভীরতা মাত্র ৬ মিটার,যেখানে অন্তত ১০ মিটার গভীর না হলে বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না।
তাহলে প্রশ্ন: এত টাকা খরচ করে বন্দর বানালে লাভ হল কী?
সমাধান হিসেবে বলা হলো—নদী খনন করতে হবে। অতঃপর ডলার সংকটের মাঝেও রিজার্ভ থেকে খরচ করা হলো আরও ৬,০০০ কোটি টাকা। কিন্তু তারপরও একটি জাহাজও আসলো না।
কেন?
কারণ তখন পর্যন্ত জেটি নির্মাণই সম্পূর্ণ হয়নি। ছোট জেটিতে তো আর বড় জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব নয়!
এবার শুরু হলো জেটি নির্মাণ। যতক্ষণে জেটির কাজ শেষ হলো, ততক্ষণে নদীতে আবার পলি পড়ে গভীরতা নেমে এলো আগের জায়গায়—মাত্র ৬ মিটারে।
অর্থাৎ, পূর্বের ৬,০০০ কোটি টাকার ড্রেজিং ছিল একেবারেই পানিতে দেওয়া টাকা। নদী আবার আগের মত shallow, কিন্তু এখন আবার খুঁড়তে হবে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২১,০০০ কোটি টাকার বিনিময়ে একটি জাহাজও আসেনি।
⸻
এই হচ্ছে তথাকথিত “উন্নয়ন”।
আমি কেন রাষ্ট্রীয় খরচ, কর-ভ্যাট, এবং তথাকথিত মেগা প্রকল্পবিরোধী—তা বুঝতে পারছেন?
একজন ব্যক্তি যখন তার রক্ত-ঘামে অর্জিত ৫০ টাকা খরচ করে, সে দশবার ভাবে। কারণ তার টাকাটা তার কাছে মূল্যবান। কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষে এই সংবেদনশীলতা থাকে না। ফলে, রাষ্ট্রীয় খরচে অপচয়, দুর্নীতি এবং অদক্ষতা লেগেই থাকে।
ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শন কী বলে?
ইসলামে রাষ্ট্র নয়, বরং ব্যক্তি উদ্যোগের উপর জোর দেওয়া হয়।
রাষ্ট্র শুধু সহায়ক হবে—ব্যবসা করাকে সহজ করবে, তবে ট্যাক্সের নামে দুধেল গরু জবাই করবে না। কর, ভ্যাট, শুল্ক—এসব সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো উপার্জনের উপর জুলুম ছাড়া কিছুই নয়। এর ফলে পণ্যের দাম বাড়ে, ব্যবসা চাপে পড়ে, আর রাষ্ট্র চালায় দুর্নীতিবাজ প্রকল্প।
⸻
একটাই সমাধান: বেসরকারীকরণ
সরকার নয়—ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি উদ্যোগে দেশের উন্নয়ন হতে হবে। তবেই অপচয় থামবে।
এই লেখাটা আপনার প্রিয়জনকে পাঠান—যদি বুঝাতে না পারেন, তাহলেও অন্তত এ লেখা পৌঁছে দিন।
আমার মতো একজন সাধারণ নাগরিকের পক্ষেও আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না এই অব্যবস্থাপনা, এই অপচয়