
শহীদ আবরার ফাহাদ-আধিপত্যবাদ বিরোধী চেতনার অমর প্রতীক : আতিকুর রহমান কামালী
আজ ৭ই অক্টোবর ২০২৬—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী। ২০১৯ সালের এই দিনে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের পক্ষে নিজের অটল অবস্থান প্রকাশের অপরাধে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আমরা স্মরণ করছি এই বীর শহীদকে।
আমাদের জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যারাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহিরাগত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন—এম ইলিয়াস আলী, আবরার ফাহাদ, মেজর সিনহা কিংবা শহীদ উসমান হাদীসহ অনেক দেশপ্রেমিক সোনার ছেলেদের বিভিন্নভাবে জীবন দিতে হয়েছে বা বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। এই আত্মত্যাগগুলো কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এগুলো আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর শোক ও চেতনার জাগরণ।
আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ আমাদের সামনে কয়েকটি বড় সত্য ও দাবিকে স্পষ্ট করে তোলে:
১. টর্চার সেলমুক্ত ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো নির্যাতন কেন্দ্র বা দলীয় সন্ত্রাসের আখড়া হতে পারে না; এটি জ্ঞানার্জনের পবিত্র স্থান। আর কোনো মেধাবী প্রাণ যেন দলীয় সন্ত্রাসের শিকার না হয়, তার জন্য শিক্ষাঙ্গনে সকল প্রকার সন্ত্রাসী ও ক্যাডার রাজনীতির স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে।
২. ‘ট্যাগিং’ রাজনীতির ঘৃণ্য কৌশল বন্ধ করা: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা ভিন্নমতকে দমন করার জন্য অপট্যাগিং দিয়ে সহিংসতার সুযোগ তৈরি করার নীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। আবরারের ওপর বর্বরোচিত হামলার আগে এই অপট্যাগিংকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
৩. সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপোসহীনতা: আবরার ফাহাদ ছিলেন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক নির্ভীক ও শানিত কণ্ঠস্বর। তাঁর চেতনা আমাদের শেখায়—দেশীয় সন্ত্রাস কিংবা বহিরাগত কোনো শক্তির কাছে দেশের স্বাধীনতা ও সম্পদ বিকিয়ে দেওয়া যাবে না।
আবরার ফাহাদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। তাঁর স্মৃতি ও চেতনা কেবল শোক প্রকাশের মাধ্যম নয়; তা আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ার দৃপ্ত শপথ।
শহীদ আবরার ফাহাদসহ সকল দেশপ্রেমিক শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
মাওলানা আতিকুর রহমান কামালী
যুগ্ম আহ্বায়ক : সাধারণ আলেম সমাজ, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখা