
আমাকে কেউ বিএনপি থেকে বহিষ্কার করেনি—আমি নিজেই নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেছি।
কিন্তু আমার পদত্যাগের পরপরই মালয়েশিয়া বিএনপির এক সদস্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন যে আমাকে ২৯ জুন বহিষ্কার করা হয়েছে!
অথচ গতকাল ছিল ১২ জুলাই! প্রশ্ন হচ্ছে,
👉 যদি আমাকে ২৯ জুন বহিষ্কার করা হতো, তাহলে আমি ১২ জুলাই পর্যন্ত তা জানলাম না কেন?
👉 আমার পদত্যাগের পরই কেন এই বহিষ্কারের নাটক সাজানো হলো?
👉 আমি যদি বিএনপির কোনো কমিটিতে না-ই থাকি, তাহলে বহিষ্কার করার দরকার কী?
👉 কে কাকে বহিষ্কার করলো – এই প্রশ্নের উত্তর কি তারা কখনো দিতে পারবে?
সত্য কথা হলো, বিএনপিতে কেউ দায়িত্ব পেলে বা বহিষ্কার হলে, এক দিনের মধ্যেই পুরো কমিউনিটিতে সেটা জানাজানি হয়ে যায়। আর আমি একজন পরিচিত মুখ, আমাকে বহিষ্কার করা হলে সেটা সবাই জানতো না? এই নাটক যারা করছে তারা কখনোই বিএনপির ছিল না। এরা ছিল আওয়ামী লীগের দোসর, আর এখন বিএনপিকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আজ যারা অনৈতিক পথে ইনকাম করতে গিয়ে নেতা সাজছে, এক সময় তারাই আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য লাইন দিতো। আজ তারা যে ভাষায় কথা বলছে, সেটা কোনোদিন ভুলবো না।
আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি ৫টি কারণে—
১. আমি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শের বিএনপি করতে চেয়েছি।
কিন্তু ৫ আগস্টের পর দলটিতে কিছু আবর্জনা ঢুকে পড়েছে, যারা দলকে সঠিক পথে চলতে দিচ্ছে না। এদের অবস্থান আপনি দুর্দিনে কোথাও খুঁজে পাবেন না। আমি সেই বিএনপির জন্য কাজ করতে পারি না, যে বিএনপিতে দুষ্টদের আগমনে ভালো মানুষরা কোনঠাসা হয়ে যাবে। তাই পদত্যাগ করেছি।
২. ১৬ বছর ধরে অন্যায়, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।
এখনো বলি, কিন্তু এখন সত্য বললেই আমাকে নানা ‘ট্যাগ’ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি এসব ট্যাগ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্যই পদত্যাগ করেছি।
৩. বিএনপির ভেতরেই আজ আওয়ামী ঘরানার ও বামদের রাজত্বের চর্চা চলছে।
ফজলুর রহমানদের মতো লোকজন ‘মুজিব বন্দনা’ করে রাজনীতি করছে, অথচ বিএনপির লোক হয়ে কেউ ইসলামী ভাবধারার কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে, তাদের সহ্য করতে পারে না! এটা আমাকে কষ্ট দেয়। এমন দ্বিচারিতা সহ্য করতে পারি না। তাই পদত্যাগ করেছি।
৪. আমি দলবাজি নয়, জনগণের ভালোবাসার ভিত্তিতে রাজনীতি করতে চাই।
আজ দেশে-বিদেশে আমার অবস্থান মানুষের ভালোবাসা থেকেই এসেছে। অথচ এখন দলে চলছে পাথর মেরে মানুষ হ*ত্যা, দখল, পদ নিয়ে বাণিজ্য। আমি এসব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতেই পদত্যাগ করেছি।
৫. আমি দেশের পক্ষে, ধর্মের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে ও ২৪ সালের সত্যিকার বিপ্লবের পক্ষে কথা বলতে চাই।
এই আদর্শেই আমি রাজনীতি করি। আর সেই কারণেই আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি—স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি।
আমার পথ এখন স্পষ্ট – আমি জনগণের প্রতিনিধি হতে চাই!
বিএনপির ভেতর যখন পদ নিয়ে বাণিজ্য চলছে, আমি তখন পদত্যাগ করে নতুন প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি।
আমি বেগম খালেদা জিয়া ও জনাব তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবো সবসময়। কিন্তু এখন আমার লক্ষ্য আরও বড়—জনগণের ভালোবাসা ও ভোটের শক্তিতে আমি ঝালকাঠী-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেব ইনশাআল্লাহ।
আমি অন্তত অর্ধলক্ষ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়ে সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দিব।
যে দিন সেই বিজয় আসবে, সে দিনই প্রমাণ হবে—কারা জনগণের বন্ধু, আর কারা ষড়যন্ত্রকারী।
সেই দিন পর্যন্ত, সবাই ভালো থাকুন।
আল্লাহ হাফেজ।
✍️ ড. ফয়জুল হক
সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী – ঝালকাঠী-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া)