
রোবট যখন মানুষের খুব কাছাকাছি চলে আসে অথবা কোনো কাজে নিয়োজিত হয়, তখন তাদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন এক অভিনব “ই-স্কিন”। এটি জাপানের ‘কিরিগামি’ শিল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই “ই-স্কিন” এমন এক সংবেদনশীল আবরণ, যা রোবটের গায়ে বসিয়ে দিলে তা মানুষের মতোই সংঘর্ষ টের পায়, আঘাতের তীব্রতা বুঝতে পারে এবং নিজেকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোবট ‘মানব সহচর’ হিসেবে আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে। বিশেষত যখন তারা সংকীর্ণ কোনো জায়গায় একত্রে কাজ করবে।
বর্তমান ‘ই-স্কিন’ প্রযুক্তি যেখানে ব্যয়বহুল বিভিন্ন সেন্সরের ওপর নির্ভর করে, সেখানে কিরিগামি-ভিত্তিক এই নতুন ডিজাইন এর “ই-স্কিন” হবে তুলনামূলকভাবে সহজ ও সস্তা । এতে আল্ট্রাসনিক ডিটেকশন, সেন্সিং এবং মেশিন লার্নিংকে একত্র করা হয়েছে। ছোট সার্কিট বোর্ডকে কিরিগামি কাটিংয়ের সাহায্যে বড় এলাকাজুড়ে বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে খুব অল্পসংখ্যক সেন্সর দিয়েই ১০০% কভারেজ দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে খরচ কমে মাত্র $৫-এরও নিচে। এর প্রশিক্ষিত নিউরাল নেটওয়ার্ক কয়েক হাজার সংঘর্ষের ডেটা বিশ্লেষণ করে, মিলিমিটার-পর্যায়ের নিখুঁত সংঘর্ষ শনাক্ত করতে পারে এবং সময় লাগে মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ড। গবেষকরা বলছেন, এটি রিয়েল-টাইমে অত্যন্ত কার্যকর এবং বাণিজ্যিকভাবে রোবটিক সিস্টেমে পরীক্ষার সময় তাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল দিয়েছে।
এই উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছে হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির এক দল গবেষক, যারা এখন এর সফটওয়্যার এবং ডিজাইনকে আরও উন্নত করতে কাজ করছেন। তাঁরা বলছেন, সঠিক শিল্প সহযোগী পেলে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই এই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃহৎ পরিসরে শুরু হতে পারে, যা “মানব-রোবট” সহাবস্থানকে করবে আরও নিরাপদ, স্মার্ট এবং কার্যকর।