
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীর অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তফসিল ঘোষণার সময়সীমা এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়াটা কোনো সাধারণ ইঙ্গিত নয়, বরং এটি নির্বাচনী ট্র্যাক থেকে দেশের ধীরে ধীরে ছিটকে পড়ারই সুস্পষ্ট সংকেত।
এখন সময় এসেছে সংকীর্ণ রাজনৈতিক চিন্তা পরিহার করে ব্রড, স্ট্র্যাটেজিক এবং সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ক্যালকুলেশন করার। দেশকে জামায়াতি স্টাইলে চিন্তা করলে চলবে না।
বাংলাদেশের বাস্তব রাজনীতিতে অতি লিবারেল অঙ্গভঙ্গি বা অতিরিক্ত নরম সুর একেবারেই অচল। বিএনপিকে এই বাস্তবতা বুঝতে হবে এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান কঠোর ও স্পষ্ট করতে হবে।
একথা খুব সরল: সরকারকে নির্বাচনের টেবিলে বাধ্য করা ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোনো কার্যকর পথ খোলা নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা দেশকে আরও বড় সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। নইলে, আরেকটি ১/১১-এর মতো অসাংবিধানিক পরিবর্তন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টর:
এই মুহূর্তে দেশের অভ্যন্তরে ড. ইউনূস সাহেবকে নিয়ে আস্থার জায়গাটিও নড়বড়ে হচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য অনুকূল নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টর—দুটোকেই একইসাথে বুঝে, গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে।
আকাশে মেঘের ঘনঘটা স্পষ্ট। নির্বাচিত সরকারের বাইরে যাওয়া মানে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে আরও পঞ্চাশ বছরের অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। দেশকে সাংবিধানিক পথেই ফিরিয়ে আনতে হবে।