
জামায়াত আমীরের সমর্থন ও ইনসাফ গার্ডের সভাপতির সাহসী বক্তব্য: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে নিজস্ব শক্তিশালী মিডিয়ার আহ্বান খান রায়হানের
আয়াত উল্ল্যাহ,ঢাকা:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে চিরঞ্জীব রাখতে এবং দেশে ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে “জান দিব, জুলাই দিব না” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় যুবনেতা ও ইনসাফ গার্ডের সভাপতি খান রায়হান অত্যন্ত জোরালো, তথ্যবহুল ও গঠনমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। বিশেষ করে, গণঅভ্যুত্থানের মূল কৃতিত্ব নিয়ে খান রায়হানের প্রথম বক্তব্যের সাথে মিল রেখে বক্তব্য রেখেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমীর মাওলানা মামুনুল হক এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান।
দেশের এই বরেণ্য রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে ডায়াসে দাঁড়িয়ে ইনসাফ গার্ডের সভাপতি খান রায়হান তাঁর বক্তব্যে দেশের চলমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন:
গণঅভ্যুত্থানের একক মাস্টারমাইন্ড মহান আল্লাহ: খান রায়হান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সর্বাত্মক কৃতিত্ব ও সাফল্য একমাত্র মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার। এখানে কোনো মানুষের একক কৃতিত্ব দাবি করার সুযোগ নেই। আল্লাহর অশেষ রহমতেই ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছে। খান রায়হানের এই বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে এবং তাঁর কথাকে সমর্থন জানিয়ে পরবর্তীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানও একই কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই গণঅভ্যুত্থানের মূল কৃতিত্ব ও একক মাস্টারমাইন্ড একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলা।
শহীদের সঠিক মূল্যায়ন ও নোংরা রাজনীতি পরিহার: তিনি আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের রক্তের সঠিক মূল্যায়নের ওপর জোর দেন। একই সাথে দেশের নোংরা, প্রতিহিংসামূলক ও চক্রান্তের রাজনীতি চিরতরে ত্যাগ করে সব দলকে সুস্থ ও ইতিবাচক ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।
শক্তিশালী মিডিয়া ও গণমাধ্যম গড়ে তোলা: অপপ্রচার ও মিডিয়া ক্যু-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনি ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক দলগুলোর নিজস্ব শক্তিশালী মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রবাহ বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের সংকটময় মুহূর্তে জামায়াত আমীরের মতো শীর্ষ নেতার সমর্থন ও তাঁর সাথে সুর মিলিয়ে বক্তব্য দেওয়া খান রায়হানের মতো তরুণ ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্বের জন্য এক বিশাল স্বীকৃতি। তাঁর এমন সাহসী ও দূরদর্শী বক্তব্য দেশের তরুণ সমাজকে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সভা শেষে খান রায়হান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন এবং ইনসাফ কায়েমের এই পথচলায় সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।