
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীতে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা: কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নদী থেকে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, গত ২০/১০/২৬ইং মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে ওই এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিদর্শনকালে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির অপচেষ্টা বন্ধের দাবিতে ২২ অক্টোবর ২০২৬ইং বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন সমাজকর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল। এই সময় তিনি সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের নিয়ে ৭ দফা দাবি পেশ করেন।
লিখিত বক্তব্য সমাজকর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া খলাপাড়া এবং ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া এবং ষাট বাড়িয়া গ্রাম এবং অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকার নদী থেকে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ব্যতীত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ভৈরবের সমাজকর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল এবং সাংবাদিক মাসুদ রানা বাবু ও সাংবাদিক জাকির হোসেন ।
অভিযোগ অনুযায়ী, নদীর মাঝখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী শাহিন ও হাজী শাহিনের ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম মিয়ার নির্দেশে এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা বেকুল মিয়ার নেতৃত্বে দুটি স্পিডবোট নিয়ে আসা ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসী পিস্তল, রামদা ও দেশিয় চাপাতি নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ওই বালু খেকো সন্ত্রাসীরা। এ সময় আমাদের সঙ্গে থাকা ৫টি মোবাইল ফোন ও নগদ আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকান্ডের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আরও অভিযোগ আছে, ঘটনার পর আমাদের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় মিথ্যা মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী বিএনপি নেতার মাধ্যমে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে তদবির করা হয়েছে।
আমরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি এবং একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে রাজনৈতিক প্রভাব বা প্রতিহিংসার শিকার হয়ে হয়রানিমূলক মামলার সম্মুখীন না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি । আমাদের দাবি-
১। ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া খলাপাড়া এবং সরাইলের পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া এবং ষাট বাড়িয়া গ্রাম ও অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় প্রতিদিন ও প্রতিরাতে নদীতে আনুমানিক ৭০ টি এর অধিক ড্রেজার অবৈধ ভাবে লাগিয়ে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ও প্রযোজ্য আইনগত অনুমোদন নিশ্চিত না করে বালু উত্তোলন করা হলে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২। সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের ওপর হামলা এবং মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩। ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে
হবে।
৪। সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের কোনো অপচেষ্টা হয়ে থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে ।
৫। নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, পরিবেশগত প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার পরিপালন যাচাই করতে প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করতে হবে ।
৬। নদী, নদীতীর, জনবসতি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে ।
৭। সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের পেশাগত ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
হবে।
তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
আমাদের বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক নয়। আমাদের উদ্দেশ্য হলো নদী ও পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
আমরা বিশ্বাস করি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিরা আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আসবেন।