
ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর থেকে প্রচুর খাগড়াছড়ির বাস ছাড়তে দেখি। সবগুলোর গায়েই দেখতাম গন্তব্য হিসেবে লেখা থাকে ‘তাইন্দং’।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আছে পাইন্দং কিন্তু তাইন্দংয়ের নাম বাসের গায়ে ছাড়া আর কোথাও চোখে পড়েনি কখনো। পানছড়ির উল্টাছড়ি থেকে ভয়াবহ সুন্দর উঁচুনিচু অথচ মাখনের মত চকচকে একটা রাস্তা ধরে চলে এলাম সীমান্ত গ্রাম তাইন্দংয়ে। চারপাশে লালমাটির উঁচুনিচু টিলা আর তাতে চমৎকার সব মাটির ঘরবাড়ি। বাড়িগুলো কাঁচা মাটির হ্যান্ডমেইড ইট দিয়ে বানানো,অপরূপ সুন্দর। উনাদের জিজ্ঞেস করলাম লোকাল লাল মাটিকে পানিতে গুলিয়ে বা পুকুরের তলার মাটির তাল দিয়ে উনারা হ্যান্ডমেইড ইট বানিয়ে রোদে শুকান। সাধারণ ইটের মত পুড়ান না। তারপর একটার পর একটা ইট বসিয়ে বাড়ি বানান। তারপর ফাইনাল একটা লেপা দেন। এসব বাড়ি নাকি শত বছরেও কিছু হয়না। আর লালমাটির কারণে লালচে একটা কালার আসে। টিলার ফাঁকে ফাঁকে ধানের ক্ষেত। আঁকাবাকা রাস্তা অতীব চমৎকার। ব্যক্তিগতভাবে আমি খাগড়াছড়ির চেয়ে ভালো রাস্তাঘাট দেশের অন্য কোন সমতল জেলাতেও পাইনি। সর্বত্র শুধুই বাঙালি সেটেলার বসতি। লোকালদের সাথে কথা বললাম।। সবার বাড়িই ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও কুমিল্লা।স্থানীয় বাজারে গিয়ে মনে হলো নোয়াখালীর বজরা বাজারে বসে আছি! এরপর তবলছড়ি, বড়নাল, খেদাছড়া, গোমতী ইত্যাদি গিয়ে দেখি একই দশা। সবই ভারতের ত্রিপুরাঘেষা সীমান্ত জনপদ! কেন ফেনী থেকে এত এত তাইন্দংয়ের বাস ছাড়ে সে রহস্য ভেদ হলো শেষমেশ!