
কুষ্টিয়া জেলার ইকরা হিফজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসার বিশিষ্ট বাংলা শিক্ষক জনাব আলফাজ উদ্দীন স্যার গত ২৮ জুলাই সকাল প্রায় নয়টায় ইন্তেকাল করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সুপরিচিত ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা এই উস্তাদের মৃত্যুতে মাদ্রাসা ও স্থানীয় সমাজে গভীর শোক নেমে এসেছে।
সূত্র জানায়, স্যার সেইদিন সুস্থ স্বাভাবিকভাবেই যথা সময়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন এবং ছাত্রদের খোঁজখবর নেন। হঠাৎ মাদ্রাসার অফিস কক্ষে গিয়ে বুকে হালকা ব্যাথা অনুভব করেন। এরপর তাঁর ছোট ছেলের বুকে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস গ্রহণ করেন। এই বেদনাদায়ক ঘটনায় পরিবারসহ সকলেই গভীরভাবে ব্যথিত।
বড় ছেলের বেদনা:
“আমার বাবা শুধুমাত্র বাবা ছিলেন না, তিনি আমার বিপদ-আপদে বন্ধু, পরামর্শদাতা ও জীবনের প্রতিটি দিকের সহচর ছিলেন। গত পাঁচ দিনে তাঁর ফোন পায়নি আমি, আর কখনো পাবও না—এই ভাবনা হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। বাবার যত্নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতের মেহমান বানান, আমিন।”
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বক্তব্য:
পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানান, ছোট ছেলেটি খুবই আদরের সন্তান এবং এখনও বাবার মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। পুরো পরিবার যেন এক অন্ধকারের ছায়ায় ঢেকে গেছে। এক সদস্য বলেন, “মনে হয় আমাদের মাথার ওপর থেকে ‘চাঁদ বট বৃক্ষ’ নামক গাছটি সরে গিয়েছে।”
অপরিচিতদের স্মৃতিচারণ:
আঙ্কেলের বড় ছেলে এবং ছোট ছেলেদের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে যারা তাঁকে কম সময়ের জন্যই দেখেছেন, তবুও তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পরামর্শ তাঁদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। “আপনি আমাদের সন্তানদের চোখে দেখতেন এবং আপনার উপদেশ জীবনের পথচলার অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে,” এবং একটা দিন আঙ্কেলের বাসায় গিয়েছিলাম আঙ্কেল কত সৎ কত ফ্রি মন-মানসিকতার মানুষ কত সুন্দর পরামর্শদাতা কত আপন করে নিলেন আমাদেরকে আমরা কখনোই আঙ্কেলের ব্যবহার ভুলব না আঙ্কেল আপনাকে বড্ড মিস করছি আমরা ।আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনাকে ভালো রাখবেন এই প্রত্যাশা করি এবং সেই দোয়া করি বলেন এক অপরিচিত।
ছাত্রদের ভালোবাসা:
ছাত্ররা জানায়, “মাদরাসার জীবনের প্রথম হাতেখড়ি তিনার হাতে। হাজারো ছাত্রের প্রিয় উস্তায ছিলেন তিনি। এমন একজন শিক্ষক হারিয়ে আমরা শূন্য হয়ে গেছি।”
রবিউল নামের এক ছাত্র বলেন, “আপনার হাসি মাখা মুখ আমাদের বারবার কাঁদাবে। আপনি আমাদের মাঝে নেই এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। আল্লাহ আপনার ভুল ত্রুটি মাফ করে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।”
জনাব আলফাজ স্যারের আকস্মিক প্রয়াণের সংবাদে কুষ্টিয়া ও তার গ্রামের বাড়ির আশপাশের এলাকায় ও শিক্ষাঙ্গনে বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তাঁর স্মৃতিচারণ শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে যাচ্ছেন।
আমরা তার মাগফিরাত কামনা করছি, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ স্থান দান করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের হৃদয়কে শান্তি দান করেন, আমিন।
এবং সেই সাথে দৈনিক আইনের কণ্ঠ শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।