1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে মেধাবী ও ক্লিন ইমেজ প্রার্থীই বিজয়ের একমাত্র কান্ডারী - dailyainerkantho
১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শনিবার| রাত ১০:৫৭|
শিরোনামঃ
‎বাংলাদেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া কে নিয়ে (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের কটুক্তির প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ মিছিল পঞ্চগড়ের দুই মাদক কারবারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড তেঁতুলিয়ায় ডিসির মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের ভিডিও বক্তব্য ও ছবি তুলতে নিষেধ করায় অনুষ্ঠান বর্জন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সাতক্ষীরার উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন কৃষক কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী পঞ্চগড়ে কৃষক কার্ড উদ্ধোধন তেতুলিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, BSSA এর ঈদ পুনর্মিলনী গেট টুগেদার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় থমকে আছে মোল্লাবাজার সেতুর কাজ: দ্রুত সমাপ্তির দাবিতে সিরাজদিখানে মানববন্ধন

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে মেধাবী ও ক্লিন ইমেজ প্রার্থীই বিজয়ের একমাত্র কান্ডারী

ডেষ্ক রিপোর্ট
  • Update Time : শুক্রবার, অক্টোবর ৩, ২০২৫,
  • 200 Time View

খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসন (২৯৮) এর জনমিতি ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং সংবেদনশীল। এই আসনের নির্বাচনী কৌশল প্রণয়নে এর অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্যগুলো সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি

জনমিতি: খাগড়াছড়ি জেলা ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। মোট জনসংখ্যা- ৭,১৪,১১৯ জন, বাঙালি জনসংখ্যা – ৫১.১%, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনসংখ্যা- ৪৮.৯০%, প্রধান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী – চাকমা (২৪.৫৩%), ত্রিপুরা (১৩.৮%), মারমা (১০.৩৯%), প্রধান ধর্ম – ইসলাম (৪৬.৫৯%), বৌদ্ধধর্ম (৩৫.৯%), হিন্দুধর্ম (১৬.৮%), খ্রিস্টান (০.৬২%) ।

এই আসনে সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মোট ভোটার সংখ্যা ৫১৫,৪১৯ জন, এর মধ্যে বাঙালি -২,১২,৬৩০ জন আর উপজাতি ৩,০২,৭৯৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৬২,০৪৪ জন এবং নারী ভোটার ২,৫৩,৩৭১ জন। এই মিশ্র জনসংখ্যার কারণে কোনো প্রার্থীর পক্ষে যেমন কোনো একক সম্প্রদায়, জাতি বা ধর্মের ওপর নির্ভর করে জয়ী হওয়া প্রায় অসম্ভব তেমনি সামরিক প্রশাসনের বিরাগভাজন কেউও এখানে জনসমর্থন পায়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর, বিশেষ করে বিএনপির, উভয় সম্প্রদায়ের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একজন বিতর্কিত বা একপেশে প্রার্থী এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারেন।

ঐতিহাসিক নির্বাচনী ফলাফল: খাগড়াছড়ি আসনের ঐতিহাসিক নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র হয়। ২০০৮ সালের বিজয়ী প্রার্থী জনাব যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ, প্রাপ্ত ভোট – ১,২২,৭৫০, ভোটের ৪৩.৯০% শতাংশ। ২০১৪ সালের বিজয়ী প্রার্থী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ, প্রাপ্ত ভোট – ৯৯,০৫৮, ভোটের ৫৯.৪০% শতাংশ। ২০১৮ সালের বিজয়ী প্রার্থী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ, প্রাপ্ত ভোট – ২,৩৬,১৫৬, ভোটের ৬৬.৮০% শতাংশ।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জনাব সমীরণ দেওয়ান ২২.৬% ভোট পেয়েছিলেন, তবে এখানে উল্লেখ্য যে ২০০৮ এ জনাব, ওয়াদুদ ভুইয়া তার আপন ভাতিজা দাউদুল ইসলাম ভুইয়া কে বিএনপির প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন যার কারনে বিএনপির ভোট দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছিল এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় দ্বিগুণ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, যার ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় । খাগড়াছড়িতে বিএনপির জন্য ভোট পুনরুদ্ধার একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা কেবল দলীয় জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে জয় করা সম্ভব নয়।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে এখানকার ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর মতো আঞ্চলিক দলগুলো এখানে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করে । এদের সশস্ত্র শাখাগুলো চাঁদাবাজি ও আন্তঃদলীয় সংঘাতে লিপ্ত, যা স্থানীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে । এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে সামরিক বাহিনী কেবল নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, বরং ‘অপারেশন উত্তরণ’-এর আওতায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । স্থানীয় রাজনীতিবিদরা তাদের রাজনৈতিক জীবনের অগ্রগতির জন্য সামরিক বাহিনীর অবদানের কথা স্বীকার করেছেন, যা রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে । ঐতিহাসিক ভাবে বিএনপির সাথে পাহাড়ের মানুষের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ই সর্ব প্রথম পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়কে বাংলাদেশি হিসেবে একক পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। যার কারনে এখানকার মানুষ বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞ । তবে বিভিন্ন সময় কিছু নেতার ব্যক্তিগত স্বার্থের কারনে বিএনপি এখানকার ফসল ঘরে তুলতে পারেনা।

ভোটারদের প্রত্যাশা ও দাবিসমূহ – খাগড়াছড়ির ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা ও দাবিগুলো নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়:
• জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে ভূমি বিরোধের স্থায়ী ও ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করা। পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের জন্য সমান নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, যা উভয় পক্ষের দীর্ঘদিনের দাবি।
• শুধু রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ। শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করা এবং জুম চাষের সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা।
• পরিবেশবান্ধব এবং সুশৃঙ্খল উন্নয়নের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন। পর্যটকদের জন্য উন্নত যোগাযোগ, আবাসন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি
• কারখানা স্থাপন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো পরিবেশগত সমস্যাগুলো সমাধান করা।
• জাতিগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

তরুণ, মেধাবী ও ক্লিন ইমেজ প্রার্থীর প্রয়োজনীয়তা: খাগড়াছড়ির বাস্তবতা
একজন তরুণ, মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী খাগড়াছড়ির পুরোনো রাজনৈতিক বিবাদ এবং বিতর্কিত নেতার প্রভাব থেকে দলে্কে আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়ার বড় সুযোগ করে দিতে পারে। তাছাড়া একজন তরুণ ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী খাগড়াছড়ির জটিল পরিস্থিতিতে একাধিক সুবিধা প্রদান করতে পারেন।

প্রথমত, কোনো ধরনের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা জাতিগত কোন্দলের অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবেন। এটি তাকে সাধারণ ভোটারদের কাছে, বিশেষ করে নিরপেক্ষ এবং প্রথমবারের ভোটারদের কাছে, অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।

দ্বিতীয়ত, তার নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি তাকে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সামরিক বাহিনীর মতো শক্তিশালী পক্ষগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করবে। কোনো এক পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে উভয় সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে পারবেন। সাম্প্রতিক জাতিগত সহিংসতার প্রেক্ষাপটে, একজন বিতর্কমুক্ত প্রার্থী পাহাড়ী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন, যা স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে । একজন তরুণ ও মেধাবী প্রার্থী যিনি উভয় পাহাড়ী ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং উভয়ের সমস্যা সমাধানে আগ্রহী, তিনি উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারেন।

তৃতীয়ত, এই আসনে উভয় সম্প্রদায়ের বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটার রয়েছে। এই উভয় গোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য একজন প্রার্থীকে বেছে নেওয়া জাতিগত বিভাজন নিরসনেও সহায়তা করবে। একজন তরুণ ও শিক্ষিত বাংগালি প্রার্থী উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারেন, যা এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনটি কেবল একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, এটি বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার একটি রক্ষা সূচক। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৭৫ পরবর্তীতে এই এক দশমাংশ ভুমির স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। শহীদ জিয়া সেদিন এই দুরদর্শী ভুমিকা না নিলে ষড়যন্ত্রকারীরা বহু আগে এই অঞ্চল্টিকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছন্ন করে ফেলতো, তাই আগামীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসুরী জনাব তারেক রহমানের দূরদর্শী সিদ্বান্তের মাধ্যমে এই এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এটা এই এলাকার মানুষের বিশ্বাস। এবং ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এবং খাগড়াছড়ির জটিল বাস্তবতা বিবেচনা করে, বিএনপির জন্য এখানে একজন তরুণ, মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া বিএনপির সম্ভাব্য বিজয়ের জন্য একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এটি কেবল একটি নির্বাচনী কৌশল নয় বরং দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailyainerkantho