
মনোহরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে মাদক নির্মূল এবং মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগের পর শুক্রবার বিকেল ও সন্ধ্যায় উপজেলার হাসনাবাদ বাজারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
হাসনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিকভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হাসনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মুনাফ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ ভূইয়া, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মোতালেব, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জামায়াত নেতা আইয়ুব আলী বিএসসি, বিএনপি নেতা অজি উল্লাহ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন রুবেল, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাবমির মাহমুদ শামীম, সদস্য সচিব রনি মুন্সিসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার বিকেলে হাসনাবাদ গ্রামের বাবলুর ছেলে মো. রাহিম কাশই গ্রামে গিয়ে মাদক কেনাবেচার চেষ্টা করলে সাদ্দাম হোসেনসহ স্থানীয়রা এতে বাধা দেন। এ সময় রাহিম তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
এরপর একই দিন কাশই গ্রামের বাসিন্দারা মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন। এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদ্দাম হোসেন হাসনাবাদ বাজারে গেলে তার ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাদ্দামের অভিযোগ, হাসনাবাদ গ্রামের মৃ মনা মিয়ার ছেলে বাবলু, তার ছেলে রাহিম এবং তালতলা গ্রামের অহিদ উল্লার ছেলে ইলিয়াস তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।
এ ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে রাহিম, বাবলু ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, “মাদকের প্রতিবাদ করাই আমার অপরাধ। মাদকের প্রতিবাদ করায় আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। এ সময় গরু কেনার জন্য রাখা ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। আমি হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
শুক্রবারের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা থেকে বক্তারা সাদ্দামের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হাসনাবাদ ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।