1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
শরিফ ওসমান হাদি: এক অনিবার্য বিপ্লবের ইতিহাস : এম.কে. জাকির হোসাইন বিপ্লবী - dailyainerkantho
৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| বুধবার| রাত ১:৩০|
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা, আদমদীঘিতে খাল খননে বদলে গেল কৃষিচিত্র!! ছিনতাই হওয়া অটো ফিরে পেয়ে খুশি রামকৃষ্ণ!! রাজশাহীতে দুই সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম: সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন বারহাট্টায় মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্টের অভিযোগ: বগুড়ায় এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে মামলা নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যানারে সুনামগঞ্জের মাঠিতে সর্বপ্রথম রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে জমিয়ত। যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা তাফহিমুল হক তালায় মালচিং পেপার ব্যবহার করে ২৮ কৃষকের অমৌসুমী তরমুজ চাষ: সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত সান্তাহারে বায়তুন নূর জামে মসজিদে চুরির চেষ্টা, থাই গ্লাসের ফ্রেম নিয়ে পালাল দুর্বৃত্তরা জামায়াত আমীরের সমর্থন ও ইনসাফ গার্ডের সভাপতির সাহসী বক্তব্য: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে নিজস্ব শক্তিশালী মিডিয়ার আহ্বান খান রায়হানের শহরের ড্রেনের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি আলী আজম

শরিফ ওসমান হাদি: এক অনিবার্য বিপ্লবের ইতিহাস : এম.কে. জাকির হোসাইন বিপ্লবী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বুধবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫,
  • 280 Time View

শরিফ ওসমান হাদি—যাকে আপামর জনতা ওসমান হাদি নামেই চিনে—কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, তিনি ছিলেন এক জীবন্ত প্রতিবাদ, এক চলমান বিপ্লবী চেতনা। তাঁর জীবন মানেই আপোষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, নীরবতার বিরুদ্ধে চিৎকার এবং আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবিরাম প্রতিরোধ। তিনি এমন এক সময়ে রাজনীতির ময়দানে আবির্ভূত হন, যখন বাংলাদেশ ক্রমাগতভাবে প্রতিবেশী আধিপত্যবাদ, অভ্যন্তরীণ স্বৈরতন্ত্র এবং সুবিধাবাদী বুদ্ধিবৃত্তিক দালালদের দ্বারা জর্জরিত। সেই অন্ধকার সময়েই ওসমান হাদি হয়ে ওঠেন এক অনিবার্য কণ্ঠস্বর—যার উচ্চারণ ছিল স্পষ্ট, নির্ভীক ও বিপ্লবী।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও চেতনার জন্ম
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাস মূলত এক অসম্পূর্ণ মুক্তির ইতিহাস। রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জিত হলেও অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত স্বাধীনতা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ভারতীয় আধিপত্যবাদ এই অঞ্চলে কেবল একটি রাষ্ট্রিয় প্রভাব নয়, বরং একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রকল্প—যা নদী, সীমান্ত, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সংস্কৃতির প্রতিটি স্তরে প্রভাব বিস্তার করেছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই ওসমান হাদির রাজনৈতিক চেতনার জন্ম।
তিনি উপলব্ধি করেছিলেন—যে রাষ্ট্র নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, সে রাষ্ট্রের জনগণ কেবল করদাতা ও ভোটার হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই উপলব্ধিই তাঁকে সাধারণ রাজনৈতিক স্রোত থেকে আলাদা করে দেয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন সেইসব চুক্তি, সমঝোতা ও নীরব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে—যেগুলো জাতীয় স্বার্থের নামে আসলে জাতীয় আত্মসমর্পণের দলিল।
ভারতীয় আধিপত্যবাদ: ওসমান হাদির মূল শত্রু
ওসমান হাদির রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলতেন—প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব এক জিনিস, কিন্তু আধিপত্য মেনে নেওয়া আরেক জিনিস। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে শুরু করে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড, বাণিজ্য ঘাটতি, ট্রানজিট ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নামে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার সব প্রক্রিয়ার তিনি ছিলেন কঠোর সমালোচক।
তিনি দেখিয়েছিলেন, কীভাবে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র তার প্রতিবেশীকে কৌশলগতভাবে নির্ভরশীল করে তোলে—অর্থনীতিতে, জ্বালানিতে, নিরাপত্তায় এবং এমনকি সাংস্কৃতিক বর্ণনায়। তাঁর ভাষায়, “যে জাতি নিজের নদীর ওপর অধিকার হারায়, সে জাতি একদিন নিজের ইতিহাসের ওপরও অধিকার হারায়।”
আপোষহীনতা: বিপ্লবীর মৌলিক পরিচয়
ওসমান হাদির সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তাঁর আপোষহীনতা। তিনি জানতেন, ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে সত্যের আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে যায়। তাই তিনি ক্ষমতার করিডোরের চেয়ে রাজপথকে বেছে নিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্ত তাঁকে কখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে তুলেছে, আবার কখনো নিঃসঙ্গও করেছে। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন—বিপ্লবীর কাজ একা দাঁড়িয়ে হলেও সত্য বলা।
দলীয় রাজনীতির ভেতরের সুবিধাবাদ, নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ ও বিদেশি কূটনৈতিক চাপ—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তিনি কথা বলেছেন জনগণের পক্ষে। তাঁর মতে, রাজনীতি যদি জনগণের জন্য না হয়, তবে তা কেবল ক্ষমতার দালালি।
সংগঠন, আন্দোলন ও রাজপথ
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক যোদ্ধা।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হয়ে রাজনীতিতে এক ব্যাতিক্রম পদযাত্রা শুরু করেছিলেন।রাজপথে জন্ম দিতে চেয়েছিলেন এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিপ্লব কেবল বক্তৃতায় নয়, সংগঠনে জন্ম নেয়। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও নগর দরিদ্রদের একত্র করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন প্রতিরোধের ভাষা। তাঁর আন্দোলন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত কিন্তু লক্ষ্যনির্দিষ্ট—সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ।
তিনি তরুণদের শিখিয়েছিলেন—স্লোগান মুখস্থ করাই রাজনীতি নয়, বরং ইতিহাস জানা, প্রশ্ন করা এবং বিকল্প প্রস্তাব হাজির করাই রাজনীতির প্রকৃত পাঠ।তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন সাংস্কৃতিক জীবন শুধু লেখনীর মাধ্যমে থেমে থাকে না।বরং সাংস্কৃতিক জীবন হতে পারে রাষ্ট্র পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম।একজন সাংস্কৃতিক কর্মী চাই রাজনীতিতে এক বিকল্প চিন্তা ধারার জন্ম দিতে পারে।আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে একজন সাংস্কৃতিক কর্মী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে,দেশ ও জাতীর তরে নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারে।
বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম ও মিডিয়া
ওসমান হাদি কেবল রাজপথের বক্তা নন, তিনি ছিলেন একজন বুদ্ধিবৃত্তিক যোদ্ধা। তাঁর প্রবন্ধ, বক্তৃতা ও সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তথ্য, ইতিহাস ও যুক্তির সমন্বয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন গণসচেতনতার অস্ত্র হিসেবে, কিন্তু কখনোই ফাঁপা জনপ্রিয়তার মোহে পড়েননি।
তিনি জানতেন, আধিপত্যবাদ কেবল বন্দুক দিয়ে আসে না, আসে বর্ণনা (Narrative) দিয়ে। তাই তিনি বর্ণনার লড়াইয়ে নেমেছিলেন—ইতিহাসকে বিকৃত করার বিরুদ্ধে, মিডিয়ার একপাক্ষিকতার বিরুদ্ধে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বের বিরুদ্ধে।
দমন-পীড়ন, হুমকি ও রাষ্ট্রযন্ত্র
আপোষহীন কণ্ঠ কখনোই নিরাপদ নয়। ওসমান হাদিকেও এর মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি জানতেন, একজন সাংস্কৃতিক আপোষহীন কন্ঠস্বরের সৈনিক হিসেবে,যেকোনো সময় শহীদি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরতে হবে।আধিপত্যবাদের বুলেট এসে তার হৃদয়টাকে ঝাঁজরা করে দেবে।যার কারনে শত হুমকি, নজরদারি, চরিত্রহনন এবং নানামুখী চাপ তাঁর নিত্যসঙ্গী ছিল। কিন্তু তিনি পিছু হটেননি। তিনি জানতেন, রাষ্ট্রযন্ত্র যখন সত্যভাষীদের ভয় পায়, তখনই বোঝা যায় সেই রাষ্ট্র নৈতিকভাবে দেউলিয়া।
তিনি বলতেন, “আমাকে থামাতে চাইলে আগে জনগণের প্রশ্ন থামাতে হবে।” তিনি একথাও বলেছেন,আমাকে থামাতে হলে গ্রেফতার করতে হবে।তিনি বেলেছেন যতক্ষন আমার মাথায় গুলি করা না হবে,ততক্ষন আমি থামবো না।তবে কেও যদি আমাকে গুলি করে মেরে ফেলে,তাহলে খুনিদের যেনো বিচার করা হয়।আমি আর কিছু চাই না রাষ্ট্রের কাছে।এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে বিপ্লবীর মর্যাদায় উন্নীত করেছে।আজ জাতির কাছে প্রশ্ন, ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের বিচার কি এই বাংলায় হবে?হাদীর খুনিরা কি গ্রেফতার হবে?
বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে ওসমান হাদি
ওসমান হাদির রাজনীতি বিতর্কহীন ছিল না।কারন ইতিহাসের অন্যতম আপোষহীন কন্ঠস্বর ছিলো সে।ভারতীয় আধিপত্য বাদের বিরুদ্ধে ছিলো তার আপোষহীন বজ্রধ্বনি।ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিবেদিত প্রান কর্মী ছিলো সে। যার কারনে সমালোচকরা তাঁকে চরমপন্থী, একরৈখিক কিংবা অতি-জাতীয়তাবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু তিনি এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন যুক্তি দিয়ে। তাঁর মতে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নরম হওয়া মানেই ভবিষ্যতের কাছে বিশ্বাসঘাতকতা।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন—জাতীয় স্বার্থে প্রশ্ন তোলা কোনো অপরাধ নয়, বরং অপরাধ হলো প্রশ্নহীন আনুগত্য।
উত্তরাধিকার: ভবিষ্যতের বিপ্লবীরা
ওসমান হাদির সবচেয়ে বড় অবদান হলো তিনি একটি প্রজন্মকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে ব্যক্তি নিজের জীবনকে একটি রাজনৈতিক বার্তায় রূপান্তর করতে পারে। তাঁর চিন্তা, ভাষা ও সংগ্রাম ভবিষ্যতের বিপ্লবীদের জন্য এক দিকনির্দেশনা।
তিনি বিশ্বাস করতেন, বিপ্লব কোনো একদিনে ঘটে না; বিপ্লব হলো দীর্ঘ প্রস্তুতি, ধারাবাহিক সংগ্রাম এবং চেতনার বিস্তার।
উপসংহার: অনিবার্য বিপ্লবের নাম ওসমান হাদি
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন সময়ের সন্তান, আবার সময়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক যোদ্ধা। তাঁর জীবন প্রমাণ করে—যখন রাষ্ট্র নীরব থাকে, তখন একজন মানুষও ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তিনি কোনো দলীয় প্রতীক নন, তিনি এক চেতনার নাম—আপোষহীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বিপ্লবী মানবিকতার চেতনা।ওসমান হাদি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন—এক অনিবার্য বিপ্লবের ইতিহাস হিসেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com