1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) সত্যের মাপকাঠি, কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক আলোচনা: মাওলানা আবুল হাসানাত শিহাব - dailyainerkantho
৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| বুধবার| ভোর ৫:২৪|
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা, আদমদীঘিতে খাল খননে বদলে গেল কৃষিচিত্র!! ছিনতাই হওয়া অটো ফিরে পেয়ে খুশি রামকৃষ্ণ!! রাজশাহীতে দুই সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম: সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন বারহাট্টায় মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্টের অভিযোগ: বগুড়ায় এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে মামলা নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যানারে সুনামগঞ্জের মাঠিতে সর্বপ্রথম রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে জমিয়ত। যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা তাফহিমুল হক তালায় মালচিং পেপার ব্যবহার করে ২৮ কৃষকের অমৌসুমী তরমুজ চাষ: সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত সান্তাহারে বায়তুন নূর জামে মসজিদে চুরির চেষ্টা, থাই গ্লাসের ফ্রেম নিয়ে পালাল দুর্বৃত্তরা জামায়াত আমীরের সমর্থন ও ইনসাফ গার্ডের সভাপতির সাহসী বক্তব্য: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে নিজস্ব শক্তিশালী মিডিয়ার আহ্বান খান রায়হানের শহরের ড্রেনের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি আলী আজম

সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) সত্যের মাপকাঠি, কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক আলোচনা: মাওলানা আবুল হাসানাত শিহাব

আতিকুর রহমান কামালী
  • Update Time : মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২৫,
  • 316 Time View

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের আকীদা অনুযায়ী, সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) ইসলাম বোঝার এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। তাদেরকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানার মূল কারণগুলো হলো:
​ক. তারা সরাসরি রাসূল (সাঃ)-এর কাছ থেকে দ্বীন শিখেছেন
​সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) হলেন প্রথম প্রজন্ম, যারা সরাসরি রাসূল (সাঃ)-এর কাছ থেকে কুরআন ও সুন্নাহ শিখেছেন এবং এর বাস্তবায়ন দেখেছেন।

​দলিল: রাসূল (সাঃ) বলেছেন:

​”সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, এরপর তাদের যুগ যারা তাদের কাছাকাছি, এরপর তাদের যুগ যারা তাদের কাছাকাছি।” (বুখারী ও মুসলিম)

​খ. তাঁদের বুঝ দ্বীনের মৌলিক অংশ
​সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) এর সমষ্টিগত বোঝাপড়া বা ইজমা (ঐক্যমত) দ্বীনের একটি শক্তিশালী দলিল। সাহাবাদের বুঝকে অস্বীকার করা মানে রাসূল (সাঃ)-এর সুন্নাহকে যেভাবে সংরক্ষিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে, তাকে অস্বীকার করার নামান্তর হতে পারে।
​গ. সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ)-এর প্রশংসা কুরআনে ও হাদীসে
​আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ)-কে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন, তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (আদালত) ও সততাকে নিশ্চিত করেছেন।

​কুরআনের দলিল:

​”আর যারা প্রথম অগ্রগামী, মুহাজির ও আনসার এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। আর তিনি তাঁদের জন্য এমন জান্নাত প্রস্তুত করেছেন যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত…” (সূরা তাওবা: ১০০)

​*. যারা সাহাবায়ে কিরামকে মাপকাঠি মানে না তাদের ক্ষেত্রে শরয়ী অবস্থান

​যে দল বা ব্যক্তিরা শুধুমাত্র রাসূল (সাঃ)-কে মাপকাঠি মানে এবং সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ)-কে মাপকাঠি মানে না, তাদের অবস্থানকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নিম্নোক্তভাবে দেখে:

​ভ্রান্তি: ইসলামী পণ্ডিতদের অধিকাংশই মনে করেন যে এই অবস্থানটি ইসলামের মৌলিক বুঝের (ফাহম) ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল বা বিচ্যুতি। কারণ, সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) ছাড়া রাসূল (সাঃ)-এর সুন্নাহর সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।

​সাহাবাদের প্রতি বিদ্বেষ (নাহবি): যারা সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ)-কে শুধুমাত্র মাপকাঠি মানে না তাই নয়, বরং তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করে বা তাঁদের সমালোচনা করে (যেমন, শিয়া মতাদর্শের একটি অংশ), তাদের অবস্থানকে সুন্নি পণ্ডিতরা গুরুতরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং এটিকে ইসলামের মূলধারার বাইরে মনে করেন।
​আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের বাইরে: সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ)-কে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানা (অর্থাৎ, তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা ও সামগ্রিক বুঝকে গ্রহণ করা) সুন্নি আকীদার একটি মূল স্তম্ভ। যারা এই স্তম্ভকে অস্বীকার করে, তারা কার্যত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায়।
​ফলাফল: সাহাবাদের বুঝকে বাদ দিলে, কুরআন ও সুন্নাহর ব্যাখ্যায় চরম বিভ্রান্তি ও মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ, রাসূল (সাঃ)-এর কথা ও কাজের প্রথম ব্যাখ্যাকারী ও বাস্তবায়নকারী ছিলেন তাঁরাই।
​সারসংক্ষেপ
​রাসূল (সাঃ): চূড়ান্ত, অবিসংবাদিত, এবং একমাত্র মূল মাপকাঠি।
​সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ): রাসূল (সাঃ)-এর মাপকাঠির আলোকেই তাঁদের সমষ্টিগত বুঝ ও কর্মপন্থাকে সত্যের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় স্তরের মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তাঁদের অনুসরণ করার নির্দেশ কুরআনেই রয়েছে।

সুতরাং, শরীয়তের দলিল এই কথা বলে যে সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ)-কে অস্বীকার করা বা তাঁদের মাপকাঠিত্বকে বাদ দেওয়া একটি ভ্রান্ত মতবাদ যা ইসলামী উম্মাহর সর্বসম্মত অবস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com