1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
আদমদীঘিতে বর্জ্য পরিশোধনাগার ছাড়াই চালকল পরিচালনা, সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে মিলল সত্যতা - dailyainerkantho
১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| মঙ্গলবার| ভোর ৫:২৫|
শিরোনামঃ
ইবির লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে মিশুক-শরিফুল ভবিষ্যতে কোনো ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক বা ক্রীড়া সংগঠককে যেন হেনস্তার শিকার হতে না হয় – গোলাম সাব্বির মাসুম ইবিস্থ জয়পুরহাট জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে ফরহাদ-আরাফাত ধর্মপাশায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য কাজলের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন দিনাজপুরের হিলিতে নসিমনের ধাক্কায় ইজিবাইকে থাকা ৪ জন যাত্রী গুরুত্বর আহত পঞ্চগড় সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ২ গরু উদ্ধার রাণীশংকৈলে কন্যাশিশু দিবস উদযাপন ঢাকায় ফিরে নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হারুনুর রশিদকে উদ্ধারে পরিবারের আকুতি, সংবাদ সম্মেলন ইবি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুষ্টিয়ায় ‘ইয়ুথ লিডারশিপ ট্রেনিং’ অনুষ্ঠিত বগুড়ায় ৩০ গ্রাম গাঁজাসহ ৩ জন গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১০ দিনের কারাদণ্ড

আদমদীঘিতে বর্জ্য পরিশোধনাগার ছাড়াই চালকল পরিচালনা, সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে মিলল সত্যতা

মিরু হাসান
  • Update Time : রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬,
  • 17 Time View

 

আদমদীঘিতে বর্জ্য পরিশোধনাগার ছাড়াই চালকল পরিচালনা, সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে মিলল সত্যতা

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই অটোমেটিক চালকল পরিচালনা এবং অপরিশোধিত বর্জ্যপানিতে খাল-বিল ও ফসলি জমি দূষণের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে নেমেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
গত রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান বিভিন্ন অটোমেটিক চালকল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি চালকলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখেন এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এদিকে পরিবেশদূষণ বন্ধ ও জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে গত বুধবার দুপুরে (৭ অক্টোবর) বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর ‘আদমদীঘিতে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই চলছে চালকল, দূষিত হচ্ছে খাল-ফসলি জমি’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং তদন্ত শুরু হয়।
জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মাছচাষের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিভিন্ন কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও অপরিশোধিত তরল বর্জ্যে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও জলজ পরিবেশ। বিশেষ করে সান্তাহার এলাকায় কয়েকটি অটোরাইস মিলের বর্জ্য সরাসরি খাল ও ফসলি জমিতে গিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বুশরা অটো রাইস মিল, সুন্দরী অটো রাইস মিল, ইছামতী, ফুলজান, সালমান, এমবি, বৈশাখীসহ প্রায় ১৪টি অটোরাইস মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। নীতিমালায় বাঁধা নিষেধ থাকলেও আদৌও তা মানা হচ্ছেনা। শুধু তাই নয় অটোরাইস মিলে বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য ইটিপি (Effluent Treatment Plant) তরল বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা বাধ্যতামূলক হওয়া সত্বেও দৃশ্যমান নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে অবাধে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন মিল মালিকরা। অথচ এসব অপরিশোধিত বিষাক্ত পানি সরাসরি প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে’ গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ জেল জরিমানা বিধান রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো কাগজে-কলমে নিয়মভঙ্গের কথা থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকর দেখা যায়নি বলে জানান সচেতন এলাকাবাসী। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাদের এমন নিরবতায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুশরা অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি রেলের জায়গা দিয়ে ফসলি জমির পাশ দিয়ে ইরামতি খালে পড়ছে। অন্যদিকে সালমান সহ কয়েকটি অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি ড্রেনের মাধ্যমে ফসলি জমি পেরিয়ে সরাসরি খাড়িতে যাচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য চালকলে চলছে একই নিয়মে। একইভাবে বিভিন্ন চালকলের অপরিশোধিত বর্জ্য পানি খাল-জলাশয়ে পড়ায় দূষিত হচ্ছে পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আবাদি জমি ও জলজ পরিবেশ। এদিকে মিলের বর্জ্য পানি ও খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করে সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারে পরীক্ষা নীরিক্ষা দেখা যায়, দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) এর স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ থেকে ৬ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। পানির পিএইচ (pH) এর স্বাভাবিক মাত্রা ৭ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ৫ হওয়ার কথা। পরীক্ষায় মিলের পানিতে পিএইচ পাওয়া গেছে ৭ দশমিক ৩ এবং খালের পানিতে ৬ দশমিক ৮। অ্যামোনিয়ার স্বাভাবিক মাত্রা ০ দশমিক ০৫ থেকে ০ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও মিলের পানিতে এর পরিমাণ ১০ মিলিগ্রামের বেশি এবং খালের পানিতে ১২ মিলিগ্রামের বেশি পাওয়া গেছে বলে পরীক্ষার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অ্যালকালিনিটির স্বাভাবিক মাত্রা ২০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে মাত্র ০ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে শূন্য।
এ বিষয়ে বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর সরেজমিন তদন্তে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।##

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 dailyainerkantho কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork.com